দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী তিন রাষ্ট্র, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হয়ে যাঁরা পালিয়ে এসেছেন, এমন অমুসলিম মানুষজনকে নাগরিকত্ব দেবে ভারত। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে পালিয়ে এসেছে না অন্য কারণে এসেছে তা প্রমাণ করা যাবে কীভাবে? অসমের বিজেপি মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা শনিবার স্বীকার করেন, কেউ ধর্মীয় কারণে পালিয়ে এসেছে কিনা, প্রমাণ করা মুশকিল। কিন্তু তাঁর বক্তব্য, যাঁরা নতুন আইনে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের দাবি নিশ্চয় খতিয়ে দেখবে।
তাঁর কথায়, "কেউ ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হলে তার প্রমাণ থাকে না। কিন্তু যাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের প্রমাণ করতে হবে ২০১৪ সালের আগে এসেছেন। কিন্তু ধর্মীয় কারণে পালিয়ে এসেছেন কিনা কীভাবে প্রমাণ করবেন? বাংলাদেশের কোনও থানা কি তাঁদের সার্টিফিকেট দেবে যে, তাঁরা ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন?"
তাহলে ভারত সরকার কীভাবে জানবে আবেদনকারীরা ধর্মীয় কারণেই পালিয়ে এসেছেন কিনা? হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, "ভারত সরকার নিশ্চয় কোনওভাবে খোঁজ নিয়ে দেখবে তাঁদের দাবি সত্য কিনা। হয়তো খোঁজ নেওয়া হবে, আবেদনকারীরা যে জায়গা থেকে এসেছেন, সেখানে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছিল কিনা।"
বিরোধীদের বক্তব্য, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়া সংবিধানের বিরোধী। নাগরিকত্ব আইনকে বলা হয়েছে মুসলিমবিরোধী। ওই আইনের বিরুদ্ধে অসম সহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির অন্যান্য নেতা বার বার বলেছেন, নতুন আইনে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। বরং অনেককে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।