শিক্ষকদের বক্তব্য, সরকারি উৎসশ্রী পোর্টাল সাধারণ বদলির জন্য তৈরি হলেও, তা প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 June 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা (Primary Teachers), যাঁরা ২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরের জেলায় পোস্টিং পেয়েছেন, তাঁদের দাবি এবার তীব্রতর হল।
পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূরবর্তী জেলায় কাজ করতে বাধ্য হওয়ার কারণে তাঁরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। অবিলম্বে নিজ জেলায় বদলির জন্য এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee's intervention) হস্তক্ষেপ চেয়ে সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষকদের বক্তব্য, সরকারি উৎসশ্রী পোর্টাল সাধারণ বদলির জন্য তৈরি হলেও, তা প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ। কিছু মাস আগে আপস বদলির ব্যবস্থা চালু হলেও তা কার্যকর হয়নি। বদলির নিয়মে চাকরির বয়স ন্যূনতম পাঁচ বছর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, পাঁচ বছর পরেও ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ও মেডিক্যাল গ্রাউন্ডের কঠিন শর্তের কারণে বদলি সম্ভব হয় না।
এক শিক্ষকের কথায়, "উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আপস বদলি খুব একটা কার্যকরী হয়নি, কারণ, দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের প্রাথমিক স্কুলে আপস বদলির পার্টনার পাওয়াটাই বিরল। এদিকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বহু প্রাথমিক শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। সরকার চাইলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে।"
হুগলির এক শিক্ষক যাঁকে আলিপুরদুয়ারে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছেন, “বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। তাঁদের পাশে থাকতে পারছি না। এটি এক মানসিক যন্ত্রণা।” মেদিনীপুরের শিক্ষিকা মমতা গিরি, যাঁর পোস্টিং কোচবিহারে, বলেছেন, “দূরত্ব এতটাই বেশি যে প্রতি মাসে বাড়ি যাওয়া অসম্ভব। পরিবার এবং স্কুলের মধ্যে ভারসাম্য রাখা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।”
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দূরবর্তী পোস্টিংয়ের কারণে তাঁরা নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে gynecological সমস্যার মাত্রা বাড়ছে।বাড়ি থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে স্কুল হওয়ার কারণে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, এমন নজিরও রয়েছে।
তাঁদের মতে, নিজ জেলায় বদলি হলে, সরকারের কোনও অতিরিক্ত আর্থিক খরচ হবে না। শিক্ষকরা সুস্থ শরীরে এবং মন দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট জেলায় নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
দূরবর্তী প্রাথমিক শিক্ষক বদলি ঐক্য মঞ্চের সম্পাদক সুখেন মণ্ডল বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ২০২০ সালে বিশেষ বদলির ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা আশা করি, তিনি আমাদের এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবেন।” ইতিমধ্যেই শিক্ষকরা বিকাশ ভবন থেকে শুরু করে নবান্ন এবং বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছেন। এমনকী একাধিকবার বিভিন্ন জনসভায় এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করেছেন। তাঁরা চাইছেন, মানবিক কারণে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করুন।