
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 4 August 2025 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা (Primary Teacher) বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) হিসাবে কাজ করতে পারবেন না—এই দাবিতে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) গিয়েছিলেন একাংশ শিক্ষক। সোমবার তাঁদের সেই আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দেশের স্বার্থে প্রাথমিক শিক্ষকদের এই কাজ করতেই হবে। কমিশনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত। তাঁর কথায়, “কর্মক্ষেত্রের কাজ শেষ করে অতিরিক্ত সময়ে ভোট সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে (BLO)।”
শিক্ষকদের দাবি ছিল, সোম থেকে শনিবার স্কুলে পড়ানোর কাজের পাশাপাশি বিএলও-র দায়িত্ব পালন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। আদালতে তাঁরা বলেন, সপ্তাহে একমাত্র রবিবার ছুটি থাকে। সেই দিনটিতে ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ চাপিয়ে দেওয়া হলে তাঁদের বিশ্রামের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে।
বিচারপতি পাল্টা মন্তব্য করেন, “বিএলও-দের ঠিক কী কী কাজ করতে হবে এবং কতটা সময় দিতে হবে, তা এখনও নির্দিষ্টভাবে জানায়নি নির্বাচন কমিশন। তা হলে শিক্ষকরা কেন ধরে নিচ্ছেন তাঁদের পূর্ণ সময় কাজ করানো হবে?”
তিনি আরও বলেন, “কমিশন প্রয়োজনে সময় ও কাজের পরিসীমা নির্ধারণ করবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষকরা তাঁদের মূল দায়িত্ব শেষ করে অতিরিক্ত সময়ে এই কাজ করতে বাধ্য।”
আদালত এও জানায়, ভোট সংক্রান্ত দায়িত্ব সরকারি কর্মীদের চাকরির শর্তের মধ্যেই পড়ে। অতীতে কেরল হাইকোর্টে হওয়া একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে একই ব্যাখ্যা দিয়েছে।
তবে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ মনে করছে, এই রায় শিক্ষক সমাজের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তাদের মতে, “শিক্ষকতা এমনিতেই পূর্ণ সময়ের কাজ। তার সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব চাপানো হলে ছাত্রদের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বিহারে ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সমীক্ষা (Special Intensive Revision – SIR)। এবার সেই কাজ শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে। নির্বাচন কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি পাঠিয়ে বিএলও, বিএলও সুপারভাইজ়ার এবং বুথ লেভেল এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই হাইকোর্টের এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।