সেই ২০১৮ সাল থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে আসা সমাজকর্মী সৌরভ দত্ত ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন। তাঁর অভিযোগ, “সরকার অনুদানের টাকাকে সমাজকল্যাণের খাতে দেখালেও, তা বাস্তবে ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 August 2025 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবারে দুর্গাপুজো (Durga Puja Donation) পিছু অনুদানের অঙ্ক ২৫ হাজার টাকা করে বাড়িয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেইপুজো অনুদান নিয়ে ফের মামলা গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)।
সেই ২০১৮ সাল থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে আসা সমাজকর্মী সৌরভ দত্ত ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন। তাঁর অভিযোগ, “সরকার অনুদানের টাকাকে সমাজকল্যাণের খাতে দেখালেও, তা বাস্তবে ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে।”
২০১৮ সালে রাজ্য সরকার যখন প্রতি পুজো মণ্ডপকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের ঘোষণা করেছিল, তখনই প্রথম মামলা করেছিলেন সৌরভবাবু। কলকাতা হাইকোর্ট সেই মামলা খারিজ করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। সৌরভের দাবি, "সেখানে রাজ্যের তরফে বলা হয়, এই অর্থ 'সেভ ড্রাইভ, সেভ লাইফ'-এর আওতায় সামাজিক সচেতনতামূলক খাতে ব্যয় হচ্ছে।"
মামলাকারীর অভিযোগ, “এই যুক্তি কেবল আদালতকে বিভ্রান্ত করার কৌশল। বাস্তবে প্রতি বছর অনুদানের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জনসমক্ষে কিছু বলছেন, আদালতে সরকার বলছে অন্য কিছু। বিদ্যুৎ বিলেও ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে পুজো মণ্ডপকে। এত বিশাল আর্থিক নয়ছয়ের দায় কে নেবে?”
সৌরভবাবুর আরও অভিযোগ, “সরকার অডিট রিপোর্টের (State Audit Report) নামে মিথ্যা রিপোর্ট পেশ করছে। এই অনুদান ধর্মনিরপেক্ষ দেশের নীতির পরিপন্থী। যেমনভাবে নিয়োগ দুর্নীতি সামনে এসেছে, তেমনই এই পুজো অনুদান সংক্রান্ত দুর্নীতিও একদিন প্রকাশ্যে আসবে।”
তবে অতীতে এই অনুদান মামলা আদালতে টেকেনি। কারণ, আদালতে রাজ্য জানিয়েছিল, দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাংলার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি জড়িয়ে রয়েছে। অনুদান বন্ধ করে দিলে অনেক পুজো কমিটির পক্ষেই বাংলার এই সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রয়েছে। তাঁর মতে, বাংলার দুর্গাৎসব কেবল একটা পুজো নয়। ইউনেসকো একে দ্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মর্যাদা দিয়েছে। পুজোর সময়ে বাংলায় ছোট, বড়, মাঝারি শিল্প অন্তত চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ব্যবসা করে। তাতে সাড়া বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষের সংসার চলে। সুতরাং এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার দায় সরকারেরও রয়েছে। তা ছা়ড়া পুজো কমিটিগুলো সারা বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক করে। তাদেরও উৎসাহ দেওয়া দরকার।
তবে এদিন হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে রাজ্যের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও। তবে বিজেপি এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে।