প্রতিবছরই তাঁরা ভাবতেন, গ্রামে একটা পুজো করলে কেমন হয়! কিন্তু টাকার সংস্থান হবে কোথা থেকে সেটা ভেবেই পিছিয়ে যেতেন। রাজ্য সরকারের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অবশেষে সাহস জোগাল তাঁদের।

পুজোর আনন্দে মেতেছেন ধুরপা গ্রামের মহিলারা
শেষ আপডেট: 11 September 2025 13:30
গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবার বাস। তবুও উৎসবের সময় আলো জ্বলত না। শোনা যেত না ঢাকের বাদ্যি। চারদিকে পুজোর আমেজ। তবে আর পাঁচটা দিনের মতোই কাটত তমলুকের ধুরপা গ্রামের বাসিন্দাদের সময়। সেই শূন্যতাই কাটিয়ে দিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। জোট বাঁধলেন মহিলারা। ১১ মাসের টাকা নিজেদের জন্য রেখে একমাসের টাকা দিয়ে তৈরি করলেন তহবিল। গ্রামে শুরু হল দুর্গাপুজো।
তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ধুরপা গ্রামে আগে কখনও দুর্গাপুজো হত না। পুজো দেখতে বা পুজো দিতে গ্রামের মহিলাদের যেতে হত প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরের গ্রামে। প্রতিবছরই তাঁরা ভাবতেন, গ্রামে একটা পুজো করলে কেমন হয়! কিন্তু টাকার সংস্থান হবে কোথা থেকে সেটা ভেবেই পিছিয়ে যেতেন। রাজ্য সরকারের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অবশেষে সাহস জোগাল তাঁদের।
২০২২ সালে প্রথমবার ধুরপা গ্রামের মহিলারা নিজেদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা থেকে চাঁদা দিয়ে শুরু করলেন দুর্গাপুজো। প্রথমে ৫০০ টাকা করে অনুদান পেতেন মহিলারা। সেই টাকা দিয়ে সূচনা হয় পুজোর। পরে ভাতা বেড়ে হয় ১০০০ টাকা। বাড়তে থাকে পুজোর বহরও। চলতি বছর গ্রামবাসীর গর্বের এই পুজো তৃতীয় বছরে পা দিল। বর্তমানে "মাতৃ শক্তি পুজো কমিটি"-র সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০০ জন। সকলে এক মাসের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা একত্র করে পুজোর জন্য দেন। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাঁদা তোলেন।
পুজো কমিটির সম্পাদক শম্পা জানা বলেন, “গ্রামে আগে দুর্গাপুজো হত না। সেই আনন্দ থেকে আমরা বঞ্চিত ছিলাম। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাই আমাদের সব দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়েছে। গ্রামের মহিলারা এক মাসের অনুদান পুজোর জন্য দান করেন। এবার অনুদান বেড়েছে, তাই এই বছরের পুজোর জৌলুসও আরও বাড়বে।”