দলবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, তাঁকে কোনও একটি আসনে প্রার্থী করা হতে পারে। এমনকী সম্ভাব্য কেন্দ্র নিয়েও নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের ঘোষিত তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় সেই জল্পনার ইতি টেনেছে শাসক দল।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রতীকুর রহমান
শেষ আপডেট: 18 March 2026 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস যখন একসঙ্গে সব আসনের প্রার্থী তালিকা (TMC Candidate List 2026) প্রকাশ করেছে, তখন সেই তালিকায় একটি নাম না থাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সদ্য সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতীকুর রহমানকে (Pratikur Rahman) ঘিরেই এই আলোচনা।
দলবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, তাঁকে কোনও একটি আসনে প্রার্থী করা হতে পারে। এমনকী সম্ভাব্য কেন্দ্র নিয়েও নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের ঘোষিত তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় সেই জল্পনার ইতি টেনেছে শাসক দল।
এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রতীকুর। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি কোনওভাবেই প্রার্থী হওয়ার আশায় দল পরিবর্তন করেননি। তাঁর কথায়, রাজনীতিতে তিনি নিজেকে 'আনপ্রেডিক্টবল' রেখেই এগোতে চেয়েছেন, এবং সেই কারণেই বিভিন্ন রকম জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
সিপিএম ছাড়ার সময় প্রতীকুরের অন্যতম অভিযোগ ছিল, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে কাজ করার পর্যাপ্ত সুযোগ দিচ্ছে না। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তখন থেকেই বিরোধীদের একাংশ দাবি করেছিল, প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা দেখেই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। যদিও সেই অভিযোগ শুরু থেকেই খারিজ করেছিলেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি একই অবস্থানেই অনড়। তাঁর দাবি, তিনি দলীয় নির্দেশ মেনে সংগঠনের কাজ করতে চান এবং দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই কাজ করবেন। এমনকী তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজে প্রার্থী না হওয়ার ইচ্ছাই ব্যক্ত করেছিলেন, এবং দল সেই কথার মর্যাদা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের হাত ধরে তিনি শাসক দলে যোগ দেন। সেই সময় থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। তবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর পরিষ্কার হয়ে গেল, আপাতত নির্বাচনী লড়াইয়ে নয়, সংগঠনের কাজেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতীকুর নিজের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান মজবুত করার দিকেই নজর দিচ্ছেন। সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামার বদলে সংগঠনের ভিত শক্ত করা তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।