সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) আত্মসমর্পণের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রশাসনিক বদল তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

স্বর্ণকার খুনে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মণ
শেষ আপডেট: 20 January 2026 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে (Swapan Kamilya) অপহরণ ও খুনের মামলায় নাম জড়ানো রাজগঞ্জের (Rajganj BDO) বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে (Prashanta Barman) অবশেষে পদ থেকে সরানো হল। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) আত্মসমর্পণের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রশাসনিক বদল তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। রাজগঞ্জের নতুন বিডিও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৌরভকান্তি মণ্ডলকে। এত দিন তিনি ওই ব্লকেরই যুগ্ম বিডিও ছিলেন।
মঙ্গলবার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায় নতুন বিডিওকে (BDO) সম্বর্ধনা জানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে থমকে থাকা প্রশাসনিক কাজ এ বার গতি পাবে। বিধায়কের কথায়, সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক একাধিক প্রকল্প আটকে ছিল, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের হাত ধরে সেগুলি এগোবে বলে তিনি আশাবাদী।
স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ গত ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকা থেকে উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে বিধাননগর পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে প্রশান্ত বর্মণের নাম। বিধাননগর পুলিশের দাবি, এই খুনের ঘটনার ‘মূল অভিযুক্ত’ প্রশান্তই। কিন্তু নাম জড়ানোর পর থেকেই তিনি কার্যত গা ঢাকা দেন।
বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এত গুরুতর মামলায় নাম জড়ালেও রাজ্য সরকার প্রশান্তের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করেনি। সেই প্রশ্নই আরও জোরালো হয়, যখন গ্রেফতারি এড়াতে একের পর এক আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। প্রথমে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত, যা মঞ্জুরও হয়ে যায়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে যায় বিধাননগর পুলিশ।
হাইকোর্টে শুনানির সময় আগাম জামিন মঞ্জুর করা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। শেষ পর্যন্ত বারাসত আদালতের নির্দেশ খারিজ করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্তকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি তা করেননি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই নির্দেশকেও চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান প্রশান্ত।
সোমবার শীর্ষ আদালতেও স্বস্তি মেলেনি তাঁর। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। তবে আত্মসমর্পণের পর তিনি জামিনের আবেদন করতে পারবেন বলে জানায় আদালত। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ চাইলে নিম্ন আদালতে হেফাজতের আবেদন জানাতে পারবে।