সোমবার এই মামলায় শীর্ষ আদালতে বড় ধাক্কা রাজগঞ্জের বিডিওর। আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
শেষ আপডেট: 19 January 2026 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দত্তাবাদে স্বর্ণকার স্বপন কামিল্যার অপহরণ এবং খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের (Rajganj BDO Prashant Barman)। জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। সোমবার এই মামলায় শীর্ষ আদালতে বড় ধাক্কা রাজগঞ্জের বিডিওর। আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হাইকোর্টের আগাম জামিনের আর্জি খারিজের রায়ও বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।
শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রশান্তকে অবশ্যই নিম্ন আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সোমবার বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ জারি করেন।
গত ২৯ অক্টোবর, নিউটাউনের (Newtown) যাত্রাগাছি এলাকা থেকে উদ্ধার হয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপনের দেহ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। তদন্ত চলাকালীনই এই হত্যাকাণ্ডে নাম উঠে আসে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের। পুলিশ তাঁকে ‘মূল অভিযুক্ত’ বলেই সন্দেহ করছে। তবে গ্রেফতার বা জেরা হওয়ার আগেই প্রশান্ত বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন এবং তাঁর আবেদন মঞ্জুরও হয়।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিধাননগর পুলিশ কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যায়। হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, কীভাবে এমন গুরুতর মামলায়, প্রয়োজনীয় নথি থাকা সত্ত্বেও, নিম্ন আদালত প্রশান্তকে আগাম জামিন দিল? বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বারাসত আদালতের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেন এবং স্পষ্ট নির্দেশ দেন, প্রশান্তকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
নির্দিষ্ট সময় পার হলেও আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত বর্মণ (Prashant Barman)। ফলে বিধাননগর পুলিশ আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুরও করে। অন্যদিকে, এদিকে প্রশান্তের আইনজীবী যুক্তি দেন, পুলিশ আগাম জামিন খারিজের জন্য আবেদন না করেই কীভাবে উচ্চ আদালতে মামলা করল? সেই প্রশ্নও আদালতে ওঠে।
হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রশান্ত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হন। সেখানে তাঁর আগাম জামিন না-দেওয়ার রায় বহাল থাকে এবং শীর্ষ আদালতও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রাজগঞ্জের বিডিও-কে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আত্মসমর্পণের পর তিনি জামিন চেয়ে আবেদন করতে পারবেন বলেও জানান্য বিচারপতিদের বেঞ্চ।
এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রশান্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাই তিনি আত্মসমর্পণ করার পর নিম্ন আদালতে তাঁর জামিনের বিরোধিতা করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারবে পুলিশ।