প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 15 January 2025 10:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন-কাণ্ডে প্রসূতি মামনি রুইদাসের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ‘মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর’ এবং ‘সেপটিক শক’-এর কথা বলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত বলছে, ২০ বছর বয়সি মামনির শরীরে সেপটিকের কারণে বিষাক্ত দেহরস জমে গিয়েছিল। এটিই তাঁর মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কাঠগড়ায় রিঙ্গার্স ল্যাকটেট (আরএল) স্যালাইন। ওই দিনই মামনি ছাড়াো, সিজার পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেওয়া, আরও চার প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাঁচজনকেই ওই স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মামনির মৃত্যু হয় শুক্রবার সকালে। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে আনা হয় তাঁদের। পঞ্চম প্রসূতি এখনও মেদিনীপুরের হাসপাতালে ভর্তি।
এই ঘটনার পর থেকেই স্যালাইনের গুণগত মান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ স্যালাইন এবং ওষুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। বিষয়টির তদন্তে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য দফতর। ওই তদন্ত কমিটি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে স্যালাইন ও ওষুধের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। শুরু হয়েছে সিআইডি তদন্তও।
মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানিয়েছেন, প্রসূতিদের চিকিৎসার সময় প্রোটোকল মানা হয়নি। অস্ত্রোপচারের সময় সিনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিতি থাকা উচিত ছিল, যা ঘটেনি। এছাড়াও, স্যালাইনের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী অক্সিটসিন ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যসচিবের বক্তব্য, ‘গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সিআইডি সূত্রের খবর, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী নন্দী এবং স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসায় গাফিলতির প্রমাণ মিললেও বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।