দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল উন্মাদনা। সেই উন্মাদনার কেন্দ্রে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হচ্ছে রথযাত্রার আয়োজন। অন্য দিকে, বিজেপিও বসে নেই।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 26 June 2025 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রথযাত্রা—যা এক পুরনো ধর্মীয় উৎসব। কিন্তু এবার সেই উৎসব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল উন্মাদনা। সেই উন্মাদনার কেন্দ্রে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হচ্ছে রথযাত্রার আয়োজন। অন্য দিকে, বিজেপিও বসে নেই।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার নিজেদের জমি আরও পোক্ত করতে চাইলেন শুভেন্দু অধিকারী। সনাতনী হিন্দুদের খানিকটা সাবধান করে দিলেন এই বলে যে, মুখ্যমন্ত্রী শাস্ত্র মানেন না। যে কারণে তিনি পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন। বিরোধী দলনেতার কথায়, "মমতা চান কালচারাল প্রোগ্রাম। এখানে আবার শাস্ত্র কেন? কীসের পুরোহিত? এই চিন্তাভাবনা ওঁদের রীতি। যে কারণে তিনি মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেন। রামমন্দির উদ্বোধনের দিন পার্ক সার্কাসে সংহতি মিছিল করেন। এদিকে উলুবেড়িয়াতে রথের পারমিশন করতে থানায় গিয়েছিল কয়েকজন। তাঁদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোনও নতুন রথযাত্রা হবে না। আর দিঘাতে যেটা হচ্ছে, সেটা রথযাত্রা? বাজনা বাজানো হচ্ছে খালি। রাজীব কুমার, বিনীত গোয়েলদের নিয়ে গেছে দড়ি টানানোর জন্য।"
শুভেন্দুর স্পষ্ট নির্দেশ, ভক্তরা যেন উলুবেড়িয়ার রথ বের করেন। যদি গ্রেফতার করা হয় কাউকে তাহলে জামিনে মুক্ত করা এবং জেলে থাকাকালীন সেই ভক্তদের পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব বিজেপি নেবে। পাশাপাশি তিনি এও বলে দেন, কোনও কারণ দেখিয়ে যদি উল্টোরথের দিন রুট বদলে দেওয়া হয় সেটাও যেন না শোনা হয়। বরং নজর রাখতে হবে, যাতে সবটা হিন্দু রীতি-নীতি মেনে হয়। জানান, "রথের মেলায় সবাই আসুন, কিন্তু রীতি মেনে রথের রশিতে যেন অহিন্দুরা হাত দেবেন না বা পুজোয় অংশ নেবেন না। অন্যধর্মের অনুষ্ঠানে যেমন আমাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তেমনই আগামিকাল সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলব রথের আয়োজকদের।"
রথ বিষয়টাও এ কেবল ধর্মীয় আবেগে থেমে নেই— তা স্পষ্ট। একদিকে মমতার তৃণমূল নিজেদের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার চেষ্টায়, অন্যদিকে বিজেপি রামনবমীর মতোই রথযাত্রাকেও কাজে লাগিয়ে ‘হিন্দুত্ব’ প্রচারে বাড়তি জোর দিচ্ছে।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এ বার সরাসরি সংঘাত দেখা দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। যাঁরা দু’জনেই নিজেদের মতাদর্শে রথযাত্রার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, এবং নিজের নিজের জায়গা থেকে উৎসবকে রাজনীতির অস্ত্র করে তুলেছেন।
এক কথায়, এ বছরের রথ শুধু ধর্মীয় নয়—রাজনৈতিক রণক্ষেত্রের দিক থেকেও তা হয়ে উঠেছে নজরকাড়া। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বাংলায় ধর্ম ও রাজনীতির এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতের ভোটচিত্রে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।