রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়কদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 26 June 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও বিজেপি বিধায়কদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Biman Banerjee) তরফে। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এতে তিনি এবং অন্যান্য বিজেপি বিধায়করা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলার শুনানি হয়। শুভেন্দুর আইনজীবী জয়দীপ কর জানান, ‘‘যে রাজ্যের পুলিশ বিধানসভার ভিতরে যেতে পারে, তাদের প্রতিটি প্রান্তে প্রবেশাধিকার থাকে, তাদের তো স্ট্রেঞ্জার বলা হচ্ছে না! অথচ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মীরা বৃষ্টিতে ভিজে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এটা সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার লঙ্ঘন।’’
তিনি আরও বলেন, বিধানসভার রুল ৩৫২ এবং ৩৬০ অধ্যক্ষকে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিলেও, ‘স্ট্রেঞ্জার’ শব্দটি নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বিচারপতি অমৃতা সিনহা প্রশ্ন করেন, “স্ট্রেঞ্জার কী, সেটার সংজ্ঞা কি দেওয়া হয়েছে?” জয়দীপ কর জানান, “না, স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে রুল ৩৬১-এর প্যারা ৩(e)-তে কিছুটা ব্যাখ্যা আছে।”
জয়দীপ কর যুক্তি দেন, “স্পিকারের নির্দেশ অনুসারে, বিধায়কদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গেট নম্বর ২-এর সামনে গাড়ি থেকে নামবেন, কেউ অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। অথচ নিরাপত্তা বিষয়টি আর্টিকেল ২১ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার। সেক্ষেত্রে একজন বিধায়কের নিজের নিরাপত্তা রক্ষীও ঢুকতে পারবেন না — এটা সংবিধানসম্মত নয়।”
অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে জানান, রাজ্য কিছুটা সময় চায়। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এক্ষেত্রে সময় দেওয়া যাবে না।” জবাবে কিশোর দত্ত বলেন, “আমি নিজের জন্য নয়, জয়দীপ করের জন্য সময় চাইছি।” তবে জয়দীপ কর জানান, “আমার যা বলার ছিল, বলা হয়ে গেছে।”
সওয়াল জবাবের পর বিচারপতি জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৮ জুলাই।