দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রিপুরার রাজনীতিতে সোমবার দিনটা বোধহয় সত্যিই মাইলফলক হয়ে থাকবে! উত্তর-পূর্বের ছোট্ট রাজ্যটির দুই প্রান্তের দু'টি ঘটনা নিয়ে দিনভর চলল চাপানউতোর। যার মোদ্দা কথা, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে রাজনৈতিক ভাবে ধাক্কা খেতে হল একদিনে।
এমনিতে ত্রিপুরা বিজেপিতে দু'টি গোষ্ঠী রয়েছে। একদিকে রয়েছেন বিপ্লব দেব। অন্যদিকে কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুদীপ রায় বর্মন। মজলিসপুরের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত চৌধুরী একসময়ে ছিলেন সুদীপ শিবিরে। কিন্ত পরে বনিবনার অভাবে শিবির বদল করেন তিনি। চলে আসেন বিপ্লবের দিকে। কিন্ত সোমবার ফের তিনি সুদীপ রায় বর্মনদের শিবিরে ফিরে যান।
কী কারণে বিপ্লব দেবের সঙ্গ ত্যাগ করলেন সুশান্ত তা নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেন ত্রিপুরা সরকারের একনায়কতন্ত্র চলছে। সোমবার রাতে প্রায় এগারোটা পর্যন্ত নিজের দফতরে ছিলেন বিপ্লব। কোভিড নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা বৈঠক করেন তিনি। কিন্ত সুশান্ত নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। তবে বিপ্লব ঘনিষ্ঠদের কথায়, "সুশান্তর খিদে আর মিটছে না। খালি আরও দাও, আরও দাও! রাজ্যের মানুষ ধান্দাবাজদের চিনে নিয়েছে।"
অন্যদিকে খোয়াই জেলায় তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকারকে। মানিকবাবু সোমবার গিয়েছিলেন খোয়াই জেলায়। সেখানেই রোজভ্যালি কাণ্ডে সর্বস্ব খোয়ানো মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। মেজাজ হারাতেও দেখা যায় মানিক সরকারকে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বাংলায় যখন মানিকবাবুর দল চিটফান্ড ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গলা ফাটাচ্ছে, তখন তাঁকে সেই বানেই বিদ্ধ হতে হচ্ছে জনজাতি অধ্যুষিত ত্রিপুরায়। যদিও সিপিএমের বক্তব্য, মানিক সরকারকে হেনস্থা করার উদ্দেশে বিজেপি-ই এতে কলকাঠি নেড়েছে। সব মিলিয়ে ত্রিপুরার প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সোমবার দিনটা ছিল বিড়ম্বনারই!