উত্তেজনার মধ্যেই সিরাজুল শেখ হঠাৎ করে নিজের কাছে থাকা একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে বাবর সরকারের বুকে তাক করে ভয় দেখান। প্রকাশ্য চায়ের দোকানে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। অনেকেই দোকান ছেড়ে সরে যান, কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে খবর দেন পুলিশে।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চায়ের দোকানের স্বাভাবিক আড্ডা মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে (Murshidabad Jalangi)। ভোটের অঙ্ক কষতে গিয়ে দুই বন্ধুর তর্ক-বিতর্ক এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে এক জনের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলঙ্গি থানার অন্তর্গত ফরিদপুর অঞ্চলের ভিটেপাড়া মাদ্রাসা মোড় সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন সিরাজুল শেখ এবং বাবর সরকার নামে দুই বন্ধু। দু’জনেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী (TMC Workers) বলে পরিচিত। চা খেতে খেতেই শুরু হয় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Elections) নিয়ে আলোচনা। কথাবার্তার মাঝেই সিরাজুল শেখ দাবি করেন, ফরিদপুর এলাকায় এবার বাম-কংগ্রেস জোট ভাল ফল করবে।
এই মন্তব্যে আপত্তি জানান তাঁর বন্ধু বাবর সরকার। তিনি পাল্টা বলেন, এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসই (TMC) এবার বেশি ভোট পাবে। কেন শাসক দলের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করা হচ্ছে, তা নিয়েই দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথার লড়াই ক্রমশই তীব্র হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যেই সিরাজুল শেখ হঠাৎ করে নিজের কাছে থাকা একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে বাবর সরকারের বুকে তাক করে ভয় দেখান। প্রকাশ্য চায়ের দোকানে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। অনেকেই দোকান ছেড়ে সরে যান, কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে খবর দেন পুলিশে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জলঙ্গি থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে সিরাজুল শেখের কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, ওই খেলনা পিস্তল দেখিয়েই ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, খেলনা পিস্তল নিয়ে কেন এমন ভয় দেখানোর পরিস্থিতি তৈরি হল। ভোটের আলোচনা কীভাবে এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, বা ইচ্ছাকৃত ভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও, প্রকাশ্য জায়গায় এমন ঘটনার ফলে এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মত স্থানীয়দের।