বিজেপির এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। সরকারি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ পাল্টা জবাবে বলেন, বিজেপি পরিষদীয় রীতিনীতি সম্পর্কেই অবগত নয় বলেই এ ধরনের মন্তব্য করছে।

শংকর ঘোষ এবং নির্মল ঘোষ
শেষ আপডেট: 3 February 2026 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিধানসভায় (West Bengal Assembly) শোকপ্রস্তাব পাঠের পর অধিবেশন মুলতবি হতেই শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক তরজা। শোকপ্রস্তাবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করা হলেও, তাতে উল্লেখ করা হয়নি রাজ্যে SIR-এর (West Bengal SIR) কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে তৃণমূল কংগ্রেস যে দাবি করে আসছে, সেই সব মৃত্যুর প্রসঙ্গ। একই সঙ্গে বাদ পড়েছে নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে (Anandapur Fire Incident) মৃতদের বিষয়টিও। এই ইস্যু দুটি বাদ পড়া নিয়েই বিধানসভায় তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়।
বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক তথা বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, শোকপ্রস্তাব থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানের অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শঙ্কর ঘোষের কথায়, তথাকথিত SIR-এর কারণে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে শাসক দল বাইরে রাজনৈতিক লড়াই করলেও, বিধানসভায় সেই নিয়ে শোকপ্রকাশ করতেও পিছিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, এক দিকে তৃণমূল নেতৃত্ব দিল্লিতে গিয়ে এই ইস্যুতে রাজনীতি করছে, অন্য দিকে রাজ্য বিধানসভায় সেই মৃত্যুগুলিকে স্বীকার করতেই অনীহা দেখাচ্ছে।
নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি বিধায়ক আরও বলেন, ওই ঘটনায় একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হলেও শোকপ্রস্তাবে তাঁদের নাম না থাকাই প্রমাণ করে, পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) মৃত্যু নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান কতটা নির্বাচনী সুবিধানির্ভর। তাঁর ভাষায়, অন্য রাজ্যে শ্রমিকের মৃত্যু হলে তা নিয়ে তৃণমূল রাজনীতি করে, অথচ নিজের রাজ্যে এত বড় দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের প্রাণ গেলে তারা নীরব থাকে। এই দ্বিচারিতা বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বিজেপির এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। সরকারি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh) পাল্টা জবাবে বলেন, বিজেপি পরিষদীয় রীতিনীতি সম্পর্কেই অবগত নয় বলেই এ ধরনের মন্তব্য করছে। তাঁর ব্যাখ্যা, বিধানসভার শোকপ্রস্তাবে সাধারণত সেই সব বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামই থাকে, যাঁরা কোনও না কোনও সময়ে এই সদনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা জাতীয়-আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব।
প্রসঙ্গত, শোকপ্রস্তাবে নাম ছিল - প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন কিস্কু, বনমালি রায়, প্রাক্তন বিধায়ক কমলাক্ষ বিশ্বাস, শীতল কুমার সরদার, মইনুল হক, শচীন্দ্রনাথ হাজরা, মনোরঞ্জন রায়, নবদুর্গা মন্ডল, জফিকুল ইসলামের। এছাড়া রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন এবং অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর।
অন্যদিকে, SIR-সংক্রান্ত মৃত্যুর প্রসঙ্গে নির্মল ঘোষ জানান, শাসক দল বিষয়টি এড়িয়ে যায়নি। ইতিমধ্যেই সেই ইস্যুতে বিধানসভায় একটি পৃথক মোশন আনা হয়েছে, যা আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই আলোচনায় আসবে। তখনই বিজেপির অভিযোগের জবাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও এখনও মৃতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত নয়। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই প্রকৃত তথ্য স্পষ্ট হবে। সেই কারণেই তড়িঘড়ি করে শোকপ্রস্তাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি শাসক শিবিরের।