কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। চওড়া, ঝকঝকে মসৃণ রাস্তা। কিন্তু সেই রাস্তাই হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ। রাস্তা উন্নত হলেও, গতির নেশায় দিনের পর দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা।

শেষ আপডেট: 30 July 2025 23:04
প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর
কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। চওড়া, ঝকঝকে মসৃণ রাস্তা। কিন্তু সেই রাস্তাই হয়ে উঠছে মৃত্যুফাঁদ। রাস্তা উন্নত হলেও, গতির নেশায় দিনের পর দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা। প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। আর তাই এবার বেপরোয়া চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন অস্ত্র নিয়ে পথে নেমেছে ট্রাফিক পুলিশ।
ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে চালু হল অত্যাধুনিক স্পিড লেজার গানের ব্যবহার। এক্সপ্রেসওয়ের উপর পাঁচটি ট্রাফিক গার্ডকে দেওয়া হয়েছে স্পিড লেজার গান। তাদেরই মধ্যে আতপুর সাব ট্রাফিক গার্ড এই মুহূর্তে বাসুদেবপুর মোড়ে সক্রিয়ভাবে গাড়ির গতি পরীক্ষা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার সংযোগকারী কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের পরিকাঠামোয় উন্নয়ন করা হয়েছে। সহজেই যাতে কল্যাণী এইমসে চিকিৎসা পরিষেবার জন্য সাধারণ মানুষ যেতে পারেন, তার জন্য রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক স্কুল-কলেজ। কিন্তু সেই সুবিধাই হয়ে উঠছে বিপদ। কারণ উন্নত রাস্তা পেতেই গতি বাড়িয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন চালকরা। এর ফলেই বাড়ছে দুর্ঘটনা। এবার অত্যাধুনিক স্পিড লেজার গান দিয়ে চলতে থাকা গাড়ির গতি রেকর্ড করছেন ট্রাফিক আধিকারিকরা। কোন গাড়ি নির্ধারিত গতির সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তা জানা যাচ্ছে তৎক্ষণাৎ।
পুলিশ জানাচ্ছে, নির্ধারিত স্পিড লিমিট অতিক্রম করলেই সেই চালককে থামানো হচ্ছে এবং সতর্ক করা হচ্ছে। চালক যদি ফের আইন ভাঙেন, তাহলে নেওয়া হচ্ছে কড়া পদক্ষেপ। ট্রাফিক বিভাগের তরফে একাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে। চালকদের জানানো হচ্ছে, গতি নয়, নিজের এবং অন্যের প্রাণের মূল্য বোঝা জরুরী। এলাকাবাসীরাও পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি। তাঁদের কথায়, “এই রাস্তা দিয়ে রোজ অসংখ্য স্কুলের ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করে। দুর্ঘটনা বাড়ছে। পুলিশের এই উদ্যোগটা সত্যিই দরকার ছিল।”