তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য—ছাত্রীকে বিয়ে করতে চাইতেন তিনি। বাধা পেয়ে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে টুকরো টুকরো করে খুনের ঘটনায় (Rampurhat case ) তদন্তে গতি আনল পুলিশ। দেহ উদ্ধারের ১০ দিনের মাথায় শুক্রবার আদালতে চার্জশিট জমা দিল তারা (Police , Charge sheet)। চার্জশিটে ধর্ষণ ও খুন—দু’টি অভিযোগই আনা হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আদালত ২৮ অক্টোবর চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেছে। তত দিন পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষককে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
গত ২৮ অগস্ট টিউশন পড়তে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি রামপুরহাটের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী। পরিবার অভিযোগ দায়ের করে থানায়। ২০ দিনের মাথায়, ১৬ সেপ্টেম্বর, কালিডাঙা গ্রামের কাছে জলাজমি থেকে উদ্ধার হয় পচাগলা দেহাংশ। ঘটনায় গ্রেফতার হন স্কুলের ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক। তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য—ছাত্রীকে বিয়ে করতে চাইতেন তিনি। বাধা পেয়ে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
চার্জশিট জমা দেওয়ার পর নাবালিকা ছাত্রীর আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চার্জশিটে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ধর্ষণ করে খুন করেছে অভিযুক্ত। নিখোঁজ হওয়ার দিন কিংবা তার পরদিনই খুন করা হয়। জেরায় সে অপরাধ স্বীকার করেছে।”
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে এলাকায়। জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষজন ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মৃত ছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, “এমন নৃশংস ঘটনায় কেবল একজন শিক্ষক জড়িত, নাকি এর পিছনে আরও কিছু রয়েছে?” একইসঙ্গে শোক প্রকাশ করে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
রামপুরহাট মহকুমা আদালতে শুক্রবার অভিযুক্তকে হাজির করানো হয় কড়া নিরাপত্তায়। সকাল থেকে আদালত চত্বরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। ঝুঁকি এড়াতে এ দিন সাধারণের প্রবেশে বিধিনিষেধ জারি ছিল।