কীভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব? জাতীয় মহিলা কমিশনের মতে, 'এর জন্য পুরো সিস্টেমটাকে বদলাতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দিতে হবে। বন্ধ করতে হবে, পুলিশের অভ্যন্তরের দুর্নীতি।"

জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যা অর্চনা মজুমদার।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 21:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে এবং এর জন্য দায়ী পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা। দাবি জাতীয় মহিলা কমিশনের (National Women's Commission)। শুক্রবার মহিলা কমিশনের তরফে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং, বারুইপুর এবং কলকাতার কয়েকটি এলাকার মোট ৭০টি কেস নিয়ে জনশুনানির আয়োজন করেছিল জাতীয় মহিলা কমিশন।
পরে সাংবাদিক বৈঠকে জাতীয় মহিলা কমিশনের অন্যতম সদস্য অর্চনা মজুমদার বলেন, "আইন মানছে না পুলিশ, মুখ দেখে বিচার করছে। পুলিশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে, তবেই নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব।"
তিনি বলেন, "পুলিশ যদি আইন মেনে প্রতিটি মামলার সুরাহা করতো তাহলে আমাদের প্রয়োজন হত না। কিন্তু নারী নির্যাতন নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে। এখন অভিযোগের মাত্রা আরও বেড়েছে।"
কী ধরনের অভিযোগ? অর্চনাদেবী বলেন, "নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঘটনায় কোথাও পুলিশ কর্ণপাত করে না, কোথাও পক্ষপাতিত্ব। কোথাও অতি সক্রিয়তা। পুলিশ যাতে সঠিকভাবে দায়দায়িত্ব পালন করে সেটা নিয়েই আলোচনা হল। দেখা গেল, চার্জশিটে প্রধান অভিযুক্তর নাম নেই। কোথাও আবার স্রেফ জিডি করে পুলিশ দায় সেরে দেয়। ধর্ষণ, খুনের মতো মামলাতেও পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করছে।"
এ ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। অর্চনাদেবী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী যদি একটু সচেতন হতেন, এত বেশি উদাসীন না হতেন, তাহলে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো মেয়েদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা এত বৃদ্ধি পেত না। রাজ্যে স্কুল ড্রপ আউট, বাল্যবিবাহও বাড়ছে। এর জন্য সামগ্রিকভাবে দায়ী সরকারই।"
কীভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব? জাতীয় মহিলা কমিশনের মতে, 'এর জন্য পুরো সিস্টেমটাকে বদলাতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দিতে হবে। বন্ধ করতে হবে, পুলিশের অভ্যন্তরের দুর্নীতি।"
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টানা তিনদিন ধরে কলকাতা ন্যাশানাল লাইব্রেরিতে এই ধরনের জনশুনানি হয়েছিল। আগামী ২৬ জুন আবারও হবে এই জনশুনানি। সেদিনের শুনানিতে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সেনও উপস্থিত থাকতে পারেন।