শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে এ ব্যাপারে পরোক্ষে অনুব্রতর পাশে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ফিরহাদ।

অনুব্রত মণ্ডল ও ফিরহাদ হাকিম।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 23:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশ অফিসারকে অশ্লীল গালিগালাজের ঘটনায় অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে পদ্ম শিবির। তবে বিষয়টিকে বড় কোনও ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে এ ব্যাপারে পরোক্ষে অনুব্রতর পাশে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ফিরহাদ।
ফিরহাদ বলেছেন, "সারাদিন ধরে যখন বিজেপির নেতারা একজন মহিলা আর্মি অফিসারকে টেরোরিস্টের বোন বলে তখন আপনারা চুপ থাকেন। আর যখন এই একটা উচকে পাঁচকা জেলায় কিছু একটা ঘটে তখন এটা হাইলাইট করেন!" নিজের বক্তব্যের সপক্ষে এও বলেন, " পুলিশকে কিছু বলা নাকি একজন মহিলা আর্মি অফিসারেরর সম্মান, কোনটার বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত?"
ফিরহাদ এও বলেন, "আইন আইনের পথে চলবে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। কেউ আইনের উর্ধে নন। তাকে দলের তরফ থেকে সতর্কও করা হয়েছে়।"
বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে সোশ্যাল মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। তাতে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। সূত্রের খবর, যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়।
নবান্নের নির্দেশে শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপরই তৃণমূলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে অনুব্রতর বিরুদ্ধে দল পদক্ষেপ করবে। এরপরই চিঠি লিখে দলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি সাংবাদিক বৈঠক থেকেও ক্ষমা চান তৃণমূলের বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে চক্রান্তর প্রশ্নও তুলেছেন কেষ্ট।
পুলিশের তরফে কেষ্টর বিরুদ্ধে এফআইআরও করা হয়েছে। আগামীকাল অনুব্রতকে তলবও করেছে বোলপুর থানার পুলিশ। তবে অনুব্রতর বিরুদ্ধে পুলিশ আদৌ কোনও পদক্ষেপ করবে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এমন আবহে কেষ্টর ঘটনায় পরোক্ষে সংবাদমাধ্যই বেশি হইচই করছে বলে মনে করেন কলকাতার মেয়র।