গত সোমবার কৃষ্ণনগরে চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, প্রেমিকা সম্পর্ক ভাঙতে চাইলে দেশরাজ হঠাৎই মেয়েটির বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়ে খুন করে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। শুরু হয় পুলিশি তদন্ত।
.jpg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 1 September 2025 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সপ্তাহের টানা অভিযান শেষে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল কৃষ্ণনগরের তরুণী ছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনের মূল অভিযুক্ত দেশরাজ সিং (Deshraj Singh Arrested)। সোমবার ভোরে উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) সীমান্ত এলাকায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টিম। ইতিমধ্যেই তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর।
গত সোমবার কৃষ্ণনগরে চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, প্রেমিকা সম্পর্ক ভাঙতে চাইলে দেশরাজ হঠাৎই মেয়েটির বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়ে খুন করে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। শুরু হয় পুলিশি তদন্ত। অনুমান করা হয়েছিল, দেশরাজ উত্তরপ্রদেশ বা নেপাল সীমান্তে আত্মগোপন করতে পারে। সেই সূত্র ধরে একাধিক দল পাঠানো হয়।
তদন্তে মোড় আসে রবিবার। গুজরাতের জামনগর থেকে গ্রেফতার করা হয় দেশরাজের মামা কুলদীপ সিংকে। জেরায় তিনি স্বীকার করেন, খুনের পর ভাগ্নেকে নিরাপদ আশ্রয় পেতে সাহায্য করেছিলেন। তার তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ দেশরাজের খোঁজ পায়। জানা যায়, তিনি নেপালে পালানোর ছক কষেছিলেন। কিন্তু সীমান্তে পৌঁছনোর আগেই তাঁকে আটক করে পুলিশ।
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অমরনাথ জানান, 'ছাত্রী হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তকে ধরতে আমাদের একাধিক টিম কাজ করেছে। ধৃতের মামা কুলদীপের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। শেষমেশ দেশরাজকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।' রাজ্য পুলিশের এই সাফল্যে স্বস্তি পেয়েছে নিহত ছাত্রীর পরিবার।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মূল অভিযুক্ত দেশরাজ আদতে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে থাকতেন। কৃষ্ণনগরে কলেজছাত্রীকে খুনের পর সে নিজের রাজ্যে পালিয়ে যায় বলে অনুমান পুলিশের। অভিযুক্তকে ধরতে কৃষ্ণনগর থানার বিশেষ দল উত্তরপ্রদেশের তিনটি আলাদা ঠিকানায় অভিযান চালায়। তল্লাশিতে দেশরাজের বাড়ি থেকে একটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দেওরিয়ার কাছাকাছি এলাকায় অভিযান চালিয়েই পুলিশ কুলদীপ সিংকে ধরে।
অভিযুক্ত দেশরাজ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বন্দুকের ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন, 'ডেডবডি সুন'। সেই বার্তার রহস্য আজ স্পষ্ট হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, দেশরাজের গোরক্ষপুরের খুড়তুতো ভাই নীতিন প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে আগে থেকেই পরিকল্পনা হয়েছিল খুনের। এখন দেশরাজকে জেরা করে আরও তথ্য আদায় করবে পুলিশ।