ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় কয়েক সপ্তাহ আগে ব্যাপক অশান্তি হয়। সেই ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ৩৬ জন। পরে মামলার তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে।

বেলডাঙায় অশান্তি
শেষ আপডেট: 5 February 2026 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেলডাঙা মামলায় (Beldanga Case) ফের রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা নিয়ে বৃহস্পতিবার ঘটে গেল টানাপড়েন। বিচারকের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বহরমপুর জেল থেকে ৩৬ জন অভিযুক্তকে কলকাতার বিশেষ এনআইএ (NIA Court) আদালতে আনা হয়নি। কারণ হিসেবে জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ তাঁদের পর্যাপ্ত পুলিশ দেয়নি। ফলে ‘হাই রিস্ক প্রিজনার’দের নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের হস্তান্তর না হওয়ায় সরাসরি রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনআইএ (NIA allegation against Police)। তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ, আর তার মধ্যেই অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করতে না পারায় প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
এই ঘটনায় বিশেষ সিবিআই আদালতে NIA-এর আইনজীবী মৌখিকভাবে জানান, জেলা পুলিশের অসহযোগিতার কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে বহরমপুর জেল থেকে অভিযুক্তদের আনা যায়নি। বিচারক জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, “পুলিশ পাওয়া যায়নি, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে অভিযুক্তদের পাঠানো যায়নি।” বিচারকের পাল্টা প্রশ্ন ছিল আরও তীক্ষ্ণ, “এসকর্ট দিতে পারব না, এটা কি কখনও রাজ্য বলতে পারে?” এরপরই NIA-এর আইনজীবী সাফ অভিযোগ করেন, 'রাজ্য পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে সহযোগিতা করছে না।'
তবে জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “অভিযোগ ঠিক নয়। আদালতের নির্দেশই পালন করা হবে।”
বেলডাঙা মামলার পটভূমি
ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় কয়েক সপ্তাহ আগে ব্যাপক অশান্তি হয়। সেই ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ৩৬ জন। পরে মামলার তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনাটি নিছক স্থানীয় অসন্তোষের ফল নয়, ডিজিটাল মাধ্যমে পরিকল্পিত উস্কানি দিয়েই অশান্তি ছড়ানো হয়েছিল। কারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত এবং এর জাল কত দূর বিস্তৃত, তা জানতে চায় তদন্তকারীরা। তাই অভিযুক্তদের জেরা করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এদিকে অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করতে না পারায় তদন্তে বাধা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে এনআইএ। বিচারকও এ বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। এখন দেখার বিষয় পরবর্তী শুনানিতে রাজ্য পুলিশ অভিযুক্তদের হস্তান্তর করে কি না।