গত চার মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার রাজ্যে আসছেন নরেন্দ্র মোদী। কৌতূহলের বিষয়, রাজনৈতিক সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার অন্যতম বিষয় কী হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 22 August 2025 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিধানসভা ভোটের আরও ৮ মাস বাকি। তার আগে গত চার মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi in Kolkata)। শুক্রবার কলকাতায় তিনটি মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন তিনি, সেই সঙ্গে দমদম সেন্ট্রাল জেল ময়দানে সভাও করবেন প্রধানমন্ত্রী। কৌতূহলের বিষয় হল, সেই রাজনৈতিক সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার অন্যতম বিষয় কী হতে পারে?
রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশের মতে, এদিনের সভায় মোদীর বক্তৃতায় অন্যতম বিষয় হয়ে উঠতে পারে বাংলায় অনুপ্রবেশ সমস্যা। অর্থাৎ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ (Bangladeshi infiltration) নিয়ে চড়া সুরে তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এবং সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের বড় অভিযোগ তুলতে পারেন তিনি।
এর প্রেক্ষাপটও ইতিমধ্যে তৈরি করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টতই জানিয়েছেন, এবার অনুপ্রবেশ সমস্যা কড়া হাতে দমন করবে তাঁর সরকার। অনুপ্রবেশের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন,“দেশবাসীকে আমি একটি বড় উদ্বেগের কথা জানাতে চাই। ষড়যন্ত্র করে দেশের জনসংখ্যার বিন্যাস বদলানো হচ্ছে। এর ফলে আমাদের যুবকদের রুজি-রোজগার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আমাদের বোন-মেয়েদের টার্গেট করা হচ্ছে, জনজাতিদের ভুল পথে চালিত করে তাদের জমি দখল করা হচ্ছে। এ সব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কারণ এটা ভয়ঙ্কর সংকট ডেকে আনতে পারে”। অনুপ্রবেশ সমস্যা ঠেকাতে নতুন ‘ডেমোগ্রাফি মিশন’ (Demography Mission) গঠনের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিঃসন্দেহে একটি বড় সমস্যা। তবে এও ঠিক, এই সমস্যা ধর্মীয় মেরুকরণের কাজেও বারবার ব্যবহার করেছে বিজেপি। মোদী ও বিজেপি মনে করছে, বাংলা সেই রাজনীতির জন্য উর্বর জমি।
প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ যখন অতীতেও অনুপ্রবেশ সমস্যার কথা তুলেছেন, তখন তৃণমূলের জবাব ছিল, সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব কার? বিএসএফের নয়কি? তাহলে কে ফেল করেছে?
তবে এরও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় পৌঁছনোর আগে অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে তৃণমূল বিরোধী আবহ তৈরিতে নেমে পড়েছেন অমিত মালব্যরা। বিজেপির এই মুখপাত্র তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২,২১৬.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে এখনও ৫৬৯ কিমি বেড়াবিহীন। ১৮১ কিলোমিটার জমির টাকা কেন্দ্র সরকার দিয়ে দেওয়ার পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই জমি সীমান্ত বেড়া দেওয়ার কাজে কেন্দ্রকে হস্তান্তর করেনি। আর তাই সীমান্ত রক্ষার কাজ থমকে রয়েছে”।
অমিত মালব্য আরও বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া না থাকায় পাচারকারীরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে মাদক বাজেয়াপ্ত হওয়ার একটা পরিসংখ্যান দেন তিনি। তাঁর দাবি ২০০৩ সাল থেকে এ যাবৎ প্রায় ১৪ হাজার কেজি মাদক পাচার হয়েছে। তা ছাড়া গরু পাচার, জাল নোট ব্যবসা ও অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুটি রাজ্যে মিলিয়ে ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করার কথা তাঁর।
কলকাতায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৫,২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে অন্যতম হল কলকাতায় মেট্রো রুটের উদ্বোধন। নোয়াপাড়া–জয় হিন্দ বিমানবন্দর, শিয়ালদহ–এসপ্ল্যানেড এবং বেলেঘাটা– (রুবির মোড়)হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। এর ফলে যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। যেমন শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড যাত্রা ৪০ মিনিট থেকে নেমে আসবে মাত্র ১১ মিনিটে। হাওড়া মেট্রো স্টেশনের নতুন সাবওয়েও উদ্বোধন করবেন তিনি। তা ছাড়া কোনা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ১,২০০ কোটি টাকা খরচ করে ৭.২ কিমি দীর্ঘ ৬ লেনের উড়াল রাস্তা তৈরি হবে এই প্রকল্পের আওতায়, যা কলকাতা-হাওড়ার মধ্যে দ্রুত সংযোগ তৈরি করবে।
তার আগে শুক্রবার সকাল ১১টায় গয়ায় প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—১,৮৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে গঙ্গার উপর নতুন ৬ লেনের সেতু, যা পাটনা জেলার মোকামা ও বেগুসরাইকে সরাসরি যুক্ত করবে। প্রায় ১,৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বখতিয়ারপুর-মোকামা জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, বিক্রমগঞ্জ-দাওয়াথ-নবীনগর-দুমরাও সড়ক প্রকল্প, ৬,৮৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বক্সার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, মুজফ্ফরপুরে হোমি ভাবা ক্যান্সার হাসপাতাল, নমামি গঙ্গে প্রকল্পে মুঙ্গেরে নিকাশি ব্যবস্থা ও জল সরবরাহ প্রকল্প। তা ছাড়া গয়া-দিল্লি 'অমৃত ভারত এক্সপ্রেস' এবং বৈশালী-কেরমা 'বৌদ্ধ সার্কিট ট্রেন' চালু হবে।