বেঙ্গালুরুর পথে ‘যাবার বেলায়’ যখন তাঁর দিকে ধেয়ে এল একাধিক প্রশ্ন, একটু কি অভিমানী সুর ধরা পড়ল দিলীপের গলায়?

শেষ আপডেট: 22 August 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দমদম বিমানবন্দরে বেঙ্গালুরুর পথে ‘যাবার বেলায়’ যখন তাঁর দিকে ধেয়ে এল একাধিক প্রশ্ন, একটু কি অভিমানী সুর ধরা পড়ল দিলীপ ঘোষের (dilip ghosh) গলায়?
তাঁর কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী কী বুঝছেন, না বুঝছেন - সেটা প্রধানমন্ত্রীর ওপরেই ছেড়ে দিন। বহু কর্মকর্তা আছেন দলে আমার মতো, দল তাঁদের নিয়ে ভাবে, তাঁদের কাজ দেয়। সময়ে, প্রয়োজনে দল কাজ লাগাবে।’
দিলীপ যে বলছেন, ‘দলের তো এখন কোনও কাজ নেই, প্রোগ্রাম নেই।’ কিন্তু, ঘটনাচক্রে আজ মোদী বাংলায় এসে যেখানে পা রাখবেন সেখান থেকে দিলীপের বাড়ির দূরত্ব খুব বেশি হলে ১৫ কিলোমিটার। তাহলে?
সেই কথার সুর ধরে দিলীপের জবাব, ‘হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী আসছেন, ভাষণ দেবেন। সে তো আমি মোবাইলেও শুনতে পারি ভাষণ। উনি আসতেই থাকবেন এখানে। ভাষণ শোনার জন্য যাওয়ার দরকার নেই। অন্য কাজ যখন দেবে দল, সেই কাজে লেগে যাব।’
এর আগে একবার দিল্লি, এক বার খড়্গপুর। আর এইবার বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গে দেখা করার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। ‘ঘটনাচক্রে’ আজই তিনি সেই ডেট পেয়েছেন তাই যাচ্ছেন দেখা করতে।
২০২৬ সালে আদৌ তিনি বিজেপির হয়ে নামছেন তো ভোট ময়দানে, নানারকম ঘটনাক্রম রাজনৈতিক মহলে ক্রমাগত উসকে দিচ্ছে এমনই নানা জল্পনা।
দিলীপ ঘোষের এই সভায় না থাকা নিয়ে কী জানালেন সুকান্ত মজুমদার? তাঁর কথা, 'শেষ দায়িত্ব তিনি পেয়েছিলেন সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির। তাই এই বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় স্তরের নেতারাই নেবেন। এটা রাজ্যস্তরের নেতাদের আওতায় নেই।'
এই ঘটনায় কটাক্ষ উড়ে এসেছে রাজ্যের শাসকদলেরও। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানান, 'দিলীপ ঘোষই উদাহরণ, বিজেপির শীর্ষস্তরে কী চলছে।'
গতকালও তাঁর গলায় ছিল অভিমান-অসন্তোষের আভাস, “কাল (শুক্রবার) যাব কিনা ঠিক করিনি। আমন্ত্রণ পাইনি। নাও যেতে পারি। অন্য কাজে চলে যেতে পারি! আমি কোথায় যাব সেটা আমি ঠিক করিনা, পার্টি ঠিক করে।”
দিলীপ ঘোষ একসময় ছিলেন বিজেপির আক্রমণাত্মক মুখ। টানা ছ’ বছর রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর রণংদেহী ভাষণ, আক্রমণাত্মক রাজনীতিই তাঁকে কর্মী-সমর্থকদের কাছে আলাদা জায়গা দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে তিনি যেন দলের ক্রমশ প্রান্তসীমায। গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি যেন এখন নিয়মিত ছবি।
দলে নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে দিলীপের ব্যাখ্যা, “আমি রিজার্ভ ফোর্সের মতো থাকি! অর্ডার এলে কাজে নামি।”
প্রসঙ্গত এর আগে গত মাসে দুর্গাপুরে মোদী যখন এসেছিলেন তখনো আমন্ত্রণ পাননি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। বরং সেদিনই তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন শীর্ষ নেতৃত্ব।
তাহলে কি দিলীপ ঘোষের অভিমান দানা বাঁধছে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির ভেতরে তাঁর গুরুত্ব যে আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে, তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন। যদিও প্রকাশ্যে তিনি অভিমানী তকমা মানতে নারাজ।