দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার রাত ন’টা বেজে ২০ মিনিট নাগাদ দেশের মাটিতে পা রাখলেন বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। প্রায় ৬০ ঘণ্টা তিনি পাকিস্তানে বন্দি হয়েছিলেন। এদিন সন্ধ্যায় তাঁর পরনে ছিল নেভি ব্লু ব্লেজার, সাদা শার্ট ও ধুসর রং-এর প্যান্ট। আশা করা হয়েছিল তিনি ফিরবেন দুপুরে। হাজার হাজার লোক সকাল থেকেই ভিড় জময়েছিলেন ওয়াঘা-আটারি সীমান্তে। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও মালা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তাঁরা উইং কম্যান্ডারের জন্য অপেক্ষা করেন।
রাতে অভিনন্দনকে সঙ্গে করে জিরো লাইন অবধি নিয়ে আসে পাকিস্তানি রেঞ্জাররা। ওই জিরো লাইনই ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা। সেখানে অভিনন্দনকে ভারতের নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা দ্রুত উইং কম্যান্ডারকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। তার আগে অভিনন্দন শুধু বলেন, দেশে ফিরে ভালো লাগছে।
গত বুধবার ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে এসেছিল পাকিস্তানের কয়েকটি এফ-১৬ বিমান। অভিনন্দনের মিগ-২১ বিমান থেকে গুলি করে একটি প্লেনকে নামান। শত্রুর গুলিতে তাঁর বিমানটিও ভেঙে পড়ে। তিনি প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নামে তাঁর প্যারাসুট। সেখানে তিনি বন্দি হন।
শুক্রবার তিনি ফিরে আসার পরে এয়ার ভাইস মার্শাল আর জি কে কপুর বলেন, অভিনন্দনকে ভালো করে মেডিক্যাল চেক আপ করা হবে। তাঁকে প্যারাসুট নিয়ে প্লেন থেকে লাফিয়ে পড়তে হয়েছিল। তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে ব্যাপক ধকল গিয়েছে। এয়ার ভাইস মার্শাল এদিন কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি।
অভিনন্দনের ফিরতে দেরি হওয়ায় নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। প্রথমে শোনা যায়, পাকিস্তান সরকার তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আগে কয়েকটি নথিপত্র চেয়েছিল। সেগুলি পেতে দেরি হওয়ায় অভিনন্দনকে বাড়তি সময় আটকে থাকতে হয়েছে। পরে জানা যায়, সীমান্তের কাছাকাছি এনে তাঁকে দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করানো হচ্ছিল। সেই ভিডিওতে অভিনন্দনকে বলতে শোনা যায়, প্যারাসুটে করে মাটিতে নামার পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে তাড়া করেছিল। পাকিস্তানের সৈনিকরাই তাঁকে বাঁচিয়েছে।
ভিডিওতে তাঁকে পাকিস্তানি সেনার আরও অনেক প্রশংসা করতে শোনা যায়। সেই সঙ্গে তিনি ভারতের মিডিয়ারও সমালোচনা করেন। অভিনন্দন চাপের মুখে ওই ধরনের কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন কিনা জানা যায়নি।
অভিনন্দন ফেরার পরে তাঁকে দেশ জুড়ে স্বাগত জানানো হয়। বহু সেলিব্রিটি তাঁকে স্বাগত জানিয়ে টুইট করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেন, উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে স্বাগত জানাই। আপনার সাহস প্রশংসনীয়। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ১৩০ কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। বন্দে মাতরম্।
https://twitter.com/narendramodi/status/1101521097323958272
তিনি ধরা পড়ার পরে উদ্বিগ্ন হয়েছিল সারা দেশ। একটি ভিডিওতে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর চোখও বাঁধা ছিল। তার পরে অভিযোগ ওঠে, পাকিস্তান জেনিভা কনভেনশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত মানছে না। যুদ্ধবন্দির ওপরে অত্যাচার করছে। পরে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেন, ‘শান্তির লক্ষে’ অভিনন্দনকে ছেড়ে দেওয়া হবে।