
নিহত ডাক্তার দীপ্র ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 15 November 2024 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক দীপ্র ভট্টাচার্যর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের আবেদন জানানো হল কলকাতা হাইকোর্টে। গত ৭ নভেম্বর ওই চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মামলাকারীর দাবি, থ্রেট কালচারের শিকার হয়েছেন নিহত চিকিৎসক। সেই প্রেক্ষিতেই জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।
নিজের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের ওই ডাক্তারের দেহ। ডাক্তারদের একাংশের দাবি ছিল, ডাক্তারের মোবাইল থেকে একটি মেসেজ অনেকগুলো নম্বরে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। তাঁর পাঠানো সেই মেসেজ ঘিরেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীপ্র মৃত্যুর আগে ওই মেসেজের মাধ্যমে 'থ্রেট কালচার' নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বলে দাবি উঠেছিল। সেই একই দাবি জনস্বার্থ মামলায় করা হয়েছে।
মামলাকারীর দাবি, মৃত্যুর আগে নিহত ডাক্তার দুটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করেন। একটি তাঁর স্ত্রীকে এবং আরেকটি চিকিৎসকদের একটি গ্রুপে। সেখানেই তিনি থ্রেট কালচার নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে দাবি। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
স্থানীয় একটি হোটেলের পাঁচতলায় থাকতেন দীপ্র ভট্টাচার্য। সেই হোটেলেই ভাড়া থাকেন ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অনেক ডাক্তার। তারাই জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ নিজের ঘরে পৌঁছন দীপ্র। তারপর থেকেই আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বহুবার তাঁর স্ত্রী তাঁকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে পাননি। বেগতিক দেখে হোটেলের অন্যান্য আবাসিকরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন দীপ্রর নিথর দেহ পড়ে আছে।
ঝাড়গ্রামের ডাক্তারদের একাংশ বলছে, দীপ্র ওইদিন একটি মেসেজ অনেকগুলো গ্রুপে শেয়ার করে 'থ্রেট কালচার' নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। যেখানে লেখা হয়, 'যারা ছাত্রদের ভয় দেখায়, স্বজনপোষণকে সমর্থন করে, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের তেল মারে তারা সন্দীপ ঘোষের থেকে কোনও অংশে কম নয়।' আরজি কর কাণ্ডের পর এই ডাক্তারের মৃত্যুর খবরে রাজ্যে এখন শোরগোল।