
শেষ আপডেট: 27 July 2022 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্তব্যরত (On duty) অবস্থায় যে কোনও পুলিশ কর্মী, স্বাস্থ্য কর্মী (Health Worker) কিংবা কোনও সরকারি কর্মীকে মারধর (Beats Up) করা বা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ফৌজদারি অপরাধের শামিল হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই যে তা মানা হচ্ছে না, আবারও তার প্রমাণ মিলল চিত্তরঞ্জন সেবা সদন হাসপাতালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায়।
মামলার বয়ান অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর চেতলার এক রোগী কলকাতা চিত্তরঞ্জন সেবা সদন ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। রোগীকে বেশ কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে সেগুলি হাসপাতালে র ফার্মাসি থেকে নিতে বলা হয়। সেই সময় ফার্মাসির দায়িত্বে ছিলেন মিহির রঞ্জন মণ্ডল।
রোগীর পরিবারকে মিহির রঞ্জনবাবু জানান, তাঁদের কাছে যে যে ওষুধের সরবরাহ রয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলোই দেওয়া যাবে। বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনে নিতে হবে। অভিযোগ, এর পরেই রোগীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের ফার্মাসির মধ্যে ঢুকে মিহির রঞ্জন বাবুকে বেধড়ক মারধর করে। সাহায্যে জন্য সেই সময় কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক এন সি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সাহায্য চাইলেও তিনি কোনও সাহায্য করেননি বলে অভিযোগ মিহির রঞ্জনবাবুর।
সরকারি হাসপাতালে কর্মরত একজন স্বাস্থ্য কর্মীকে এইভাবে রোগীর পরিবার মারধর করা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও কোনওরকম সাহায্য না করায় পুরো বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মিহির রঞ্জন মণ্ডল।
মিহির বাবুর আরও অভিযোগ, রোগীর পরিবার আদতে শাসকদলের কর্মী সমর্থক। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন কোনওভাবেই এই ঘটনাটি তাঁকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। বরং তাঁরা বলেছেন বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নিতে। সেদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে এবং চাকরিতে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন মিহির রঞ্জনবাবু। কিন্তু কেউই মিহিরবাবুর সাহায্যে এগিয়ে না আসায় অসহায় মিহিরবাবু কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন।
R G Kar Hospital: আরজি করের এমার্জেন্সি বিভাগে বিরিয়ানির আসর বসান ডাক্তাররা! বড় অভিযোগ
মামলাকারি মিহির রঞ্জন মণ্ডলের পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হওয়ার পরেই কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে তার উত্তর তলব করে তাঁর মক্কেলকে শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আশিসবাবুর দাবি, সরকারি হোক বা বেসরকারি, হাসপাতালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীদের মারধর এবং হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে পুলিশ সেই ঘটনায় জড়িত রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এবং রাজ্য সরকারের একাধিক নির্দেশিকা রয়েছে। তা সত্ত্বেও পুলিশ আধিকারিকের উপস্থিতিতে হেনস্থা এবং মারধরের ঘটনায় পুলিশ রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে তাঁকে, জানিয়েছেন তিনি।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হবে বিচারপতি শম্পা সরকারের এজলাসে।