ঘটনার সুত্রপাত গত শনিবার। ভাতারের বলগোনার বাসিন্দা নমিতা মাঝি রক্তাল্পতায় বর্ধমান মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন শনিবার সকালে। তাদের পরিবারের লোকজনকে দুটি কাগজ দিয়ে ব্ল্যাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত আনতে বলা হয়।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ
শেষ আপডেট: 7 November 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: গত সপ্তাহে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমিতা মাঝির জন্য আনা রক্ত দেওয়া হয়েছিল নমিতা বাগদিকে। শুক্রবার ভোরে তিনি মারা গেছেন। এই ঘটনায় নতুন করে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন মৃতার ছেলে।
নমিতা বাগদির বাবা দুকড়ি বাগদি হতাশ। তিনি বলেন, "আর কী হবে! আর কি আমার মেয়েটাকে ফিরে পাব?" তাঁর কথায়, "ভুল রক্ত দেবার পর থেকেই মেয়ের অবস্থা নতুন করে খারাপ হতে থাকে। বারবার ডাক্তারদের সে কথাই বলেছি। তবুও কিছু করা গেল না। মেয়েটাকে হারিয়ে ফেললাম আমরা।"
অন্যদিকে নমিতার ভাইপো সুমন্ত জানায়, সেদিন রক্ত দেওয়ার পর থেকে হাত ফুলে যায়। তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখান থেকে সে ঠিক হয়ে যায়। আজকালের মধ্যেই তার ছুটি হওয়ার কথা ছিল। ছেলে রাহুল বলে, "গতকাল মা ভালভাবেই ডায়ালেসিস নেয়। কিন্তু রাতে হঠাৎ তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আবার নিয়ে যাওয়া হয় আইসিইউতে। আজ ভোরে হাসপাতাল থেকে জানানো হয় মা মারা গেছে।" তাঁঁদের অভিযোগ, সাপের কামড়ের চিকিৎসার পর নমিতা ভাল ছিলেন। নার্সদের ভুলে তাঁর প্রাণ চলে গেল। ঘটনার সুত্রপাত গত শনিবার। ভাতারের বলগোনার বাসিন্দা নমিতা মাঝি রক্তাল্পতায় বর্ধমান মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন শনিবার সকালে। তাদের পরিবারের লোকজনকে দুটি কাগজ দিয়ে ব্ল্যাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত আনতে বলা হয়। নমিতা মাঝির ছেলে সঞ্জিত মাঝি বলেন, "রক্ত আনার পর সেই রক্ত আমার মায়ের বদলে নমিতা বাগদি নামে অন্য একজনের শরীরে চালানো হয়। রক্ত দেওয়ার পরেই ওই ভদ্রমহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনই টনক নড়ে সিস্টারদের।"
নমিতা মাঝি নামে ৫৩ বছরের রোগিনীর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের তুলসীডাঙ্গা গ্রামে। তাঁর রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার চিকিৎসা হচ্ছিল। নমিতা মাঝির জন্য রক্ত লাগবে জানতে পেরে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত আনেন তাঁর ছেলে সঞ্জিত মাঝি। পরে তিনি তাঁর বৌদিকে ফোনে জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, তাঁর মাকে রক্ত দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে অন্যজনকে সেই রক্ত দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে নাকি ভুল বুঝতে পেরে নমিতা বাগদিকে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, রক্ত দেওয়ার পরেই নমিতা বাগদির শরীরও খারাপ হতে থাকে। শুক্রবার মৃত্যু হয় তাঁর। নমিতা বাগদির মৃত্যুর পর হাসপাতালের সুপারকে ফোন করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।