"ভাতা তো এই প্রথম দেওয়া হচ্ছে না। বামপন্থীরাও ভাতা দিয়েছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও ভাতা রয়েছে। তবে সবচেয়ে আগে যেটা প্রয়োজন তা হল কর্মসংস্থান।"

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 21 February 2026 14:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাতাকে সমর্থন করেও কর্মসংস্থানে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। জেলমুক্তির পর প্রথম জনসংযোগে বেরিয়ে তিনি বলেন, "ভাতা তো এই প্রথম দেওয়া হচ্ছে না। বামপন্থীরাও ভাতা দিয়েছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও ভাতা রয়েছে। তবে সবচেয়ে আগে যেটা প্রয়োজন তা হল কর্মসংস্থান।"
২০২২ সালের ২৩ জুলাই স্কুল সার্ভিস কমিশন–সংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্তে পার্থ চট্টপাধ্যায়কে গ্রেফতার (Partha Chatterjee Arrest) করে ইডি (Enforcement Directorate)। সে সময় তিনি রাজ্য সরকারের শিল্পমন্ত্রী ও পরিষদীয় দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেফতারের পরপরই তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয় এবং শাসক দল তৃণমূল তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
পরবর্তীতে একই মামলার প্রেক্ষিতে সিবিআই (Central Bureau of Investigation)-এর হাতেও গ্রেফতার হন তিনি। একাধিক মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর কারামুক্তি হয় করেন পার্থর। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নাকতলার বাড়ি থেকে তাঁকে একেবারেই বেরোতে দেখা যায়নি। যদিও দ্য ওয়ালকে তিনি জানিয়ে রেখেছিলেন, বিধায়ক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব বেহালা পশ্চিমের মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। কথা মতো আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি শনিবার থেকেই জনসংযোগে বেরিয়ে পড়লেন। আর তখনই ভাতাকে সমর্থন করেও কর্মসংস্থানে জোর দিতে চাইলেন তিনি।
পার্থর এহেন মন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। জনসংযোগে বেরিয়ে বকলমে কাকে বার্তা দিতে চাইলেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক, তা নিয়ে প্রধ্ন তুলেছে সিপিএম। বিজেপিও ছেড়ে কথা বলছে না। তাদের যুক্তি, ভাতার বিকল্প ছিলই। বহু চাকরি দেওয়া যেত। একই সুরে পার্থর নিজের দল তৃণমূল বলছে, শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন যদি তিনি ঠিক কাজ করতেন, তাহলে এমন হত না।
এদিন যে শুধু তিনি ভাতা-রাজনীতি নিয়েই কথা বলেছেন, তা নয়। তাঁর প্রধান উপলক্ষ্য নিজের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া। পার্থ বলেন, "বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, তাঁকে গ্রন্থাগার কমিটি, আবাসন ও অগ্নিনির্বাপণ জরুরি পরিষেবা কমিটি এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিধানসভার বিধি অনুসারে মুখ্যমন্ত্রী, কোনও মন্ত্রী বা বিরোধী দলনেতা স্থায়ী সমিতি বা অন্যান্য কমিটির সদস্য হতে পারেন না। ২০০১ সালে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর পার্থ একাধিক কমিটিতে কাজ করেছিলেন। তবে ২০০৬ সালে বিরোধী দলনেতা এবং ২০১১ সালে সরকার গঠনের পর দীর্ঘদিন মন্ত্রী থাকায় তিনি আর কোনও কমিটিতে যুক্ত ছিলেন না। বর্তমানে মন্ত্রিত্বে না থাকায় ফের বিধানসভার বিভিন্ন কমিটিতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।