ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পার্থ-হুমায়ুনের জন্য আলাদা আসন নির্দিষ্ট করে রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রতীকী দূরত্ব দু’ই একসঙ্গে স্পষ্ট করতে চাইছে শাসকদল।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 8 December 2025 20:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun kabir) রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি নয়া মোড় নিল। শনিবার পর্যন্ত নিজেই ঘোষণা করেছিলেন—বিধায়কের পদ ছাড়বেন। কিন্তু পরে সুর বদলে জানিয়ে দেন, আপাতত ইস্তফা নয়। আর সেই ঘোষণার পরই দ্রুত নড়েচড়ে বসল তৃণমূল পরিষদীয় দল। সিদ্ধান্ত, আসন্ন অধিবেশনে বদলে দেওয়া হবে হুমায়ুনের আসন।
দলের নির্দেশ স্পষ্ট, দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সূত্রের খবর, ট্রেজারি বেঞ্চের পাশের প্রিয় আসন ছেড়ে এবার তাঁকে বসতে হতে পারে বিজেপি পরিষদীয় দলের নিকটবর্তী সারিতে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা, “পার্টির অবস্থানের সঙ্গে যাঁদের মিল নেই, তাঁদের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় (West Bengal assembly)।”
কিন্তু ভরতপুরের বিধায়কের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ঘাসফুল শিবিরে অস্বস্তি বেড়েছে। এমনকী এদিনও হুমায়ুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২৬ এর ভোটে জেলা থেকে তৃণমূলকে নাকি শূন্য করে দেবেন তিনি। দলের এক প্রথমসারির নেতার কথায়, "অতীতে বারংবার হুমায়ুনকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তার আচরণে বা বক্তব্যে বিশেষ বদল ঘটেনি। বরং তারপরও দলকে ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন। তাই সবদিক বিবেচনা করেই দূরত্বের সিদ্ধান্ত।"
এখানেই শেষ নয়। আরও এক সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও (Partha Chatterjee) অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন—জেলমুক্তির পর এমনই ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। জানা যাচ্ছে, পার্থর জন্যও বিজেপির সারির একেবারে পাশের আসন। ফলে আসন্ন অধিবেশনে বিধানসভার নতুন জুটি হিসেবে পার্থ ও হুমায়ুনকে পাশাপাশি দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই মুহূর্তে ফের হাসপাতালে ভর্তি। ফলে আসন্ন অধিবেশনে তিনি আদৌ বিধানসভায় উপস্থিত থাকবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বিধানসভায় এলে পার্থ এবং হুমায়ুন, দুই সাসপেন্ডেড বিধায়ককে নতুন আসনে যে দেখা যাবে তা বলাইবাহুল্য। একান্ত আলাপচারিতায় তৃণমূলের অন্য বিধায়করা পার্থ-হুমায়ুনের এই আসন বদলকে 'নতুন জুটি' বলেও কটাক্ষ করছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পার্থ-হুমায়ুনের জন্য আলাদা আসন নির্দিষ্ট করে রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রতীকী দূরত্ব দু’ই একসঙ্গে স্পষ্ট করতে চাইছে শাসকদল।