দলের একটি বড় অংশ তাঁকে ভুল বুঝছে, তিনি কোনও অসাধু কাজে জড়িত নন—এসব বলতে বলতেই পার্থ নাকি অপ্রতিভ হয়ে পড়েন, গলা ধরে আসে, কণ্ঠ কেঁপে ওঠে।

কুণাল ঘোষ ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 26 November 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার বিকেল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) ফোন আচমকাই বেজে উঠল, অপর প্রান্তে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, দলের একদা মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)।
শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে ফোন করেছিলেন তিনি। আর সেখানেই তৈরি হল এক আবেগঘন মুহূর্ত—সূত্রের দাবি, কথোপকথনের মাঝেই নাকি কান্নায় ভেঙে পড়েন পার্থ।
সোমবার স্নানঘরে পা পিছলে পড়ে ডান পায়ের হাড় ভেঙেছেন কুণাল। পা প্লাস্টারের পর এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেই খবর পেয়ে বুধবারই ফোন করেন পার্থ। জানতে চান, কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল। তার পরই কথার সুর নরম হয়ে আসে। দলের একটি বড় অংশ তাঁকে ভুল বুঝছে, তিনি কোনও অসাধু কাজে জড়িত নন—এসব বলতে বলতেই পার্থ নাকি অপ্রতিভ হয়ে পড়েন, গলা ধরে আসে, কণ্ঠ কেঁপে ওঠে।
সূত্রের দাবি, সেই কথা শুনে কুণাল তাঁকে বলেন, “এ সব এখন ভাববেন না। সুস্থ থাকুন। নিজের শরীরের যত্ন নিন।”
পরে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কুণাল বলেন, “ওনার নতুন ফোন নম্বর আমি জানতাম না। পা ভাঙার খবর পেয়ে খোঁজ নিতে ফোন করেছিলেন। কিছু বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে এ নিয়ে বাইরে কিছু বলব না।" পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
জেল থেকে বেরিয়েই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে পার্থ জানতে চেয়েছিলেন, কোন ধারায় তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে? কেন একই অভিযোগে দলের অন্য অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়ালেও তাঁর ক্ষেত্রে আলাদা আচরণ?
এমনকী কবে থেকে বিধানসভা অধিবেশন শুরু হচ্ছে, তিনি কোন আসনে বসবেন, তা জানতে চেয়ে বিধানসভার স্পিকারকেও চিঠি দিয়েছেন পার্থ। তবে তবে সেই চিঠিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee)।
বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্পিকারের সরাসরি জবাব, “বিধানসভার অধিবেশন কবে খুলছে, কোথায় বসবেন— এসব জানতে চেয়ে পার্থবাবু চিঠি লিখেছেন। আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। সব বিধায়ক যখন জানবেন, তাঁকেও জানানো হবে।"