আজ, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন।

প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 26 September 2025 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় (SSC scam) রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) জামিনের আর্জির রায় ঘোষণা করবে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আজ, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় (bail verdict) দেবেন।
২০২২ সালে প্রথম ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই জেলবন্দি পার্থ। ইডির মামলায় তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। সম্প্রতি নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ মামলাতেও মিলেছে জামিন। আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত ৯০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে পার্থকে জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে সঙ্গে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্ত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। অনুমতি ছাড়া কলকাতা ছেড়ে যেতে পারবেন না।
এমনকী সিবিআইয়ের আরও কয়েকটি মামলায়ও জামিন মিলেছে তাঁর। এখন বাকি কেবল প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মামলা। সেই মামলাতেই আজ রায় ঘোষণা হবে।
আইনজীবীদের দাবি, এই মামলাতেও জামিন মিললেই প্রায় আড়াই বছর পর জেল থেকে বেরোতে পারবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ফলে পুজোর আগেই তাঁর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিকে নিয়োগ মামলায় গত ২৭ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করে সিবিআই। তাতে পার্থ ছাড়াও অয়ন শীল, সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়দের নাম রয়েছে। এই মামলায় পার্থর জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য রাজসাক্ষী হওয়ায় অভিযুক্তদের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।
তবে সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, পার্থই নিয়োগ দুর্নীতির ‘মূল মাথা’। তাই তিনি বাইরে এলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই এতদিন জামিন দেওয়া হয়নি বলে দাবি তদন্ত সংস্থার।
২০২২ সালের ২২ জুলাই দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় পার্থর বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। একইসঙ্গে, পার্থর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা, আর বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের পরই গ্রেফতার করা হয় পার্থ এবং অর্পিতাকে। অর্পিতা ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। কিন্তু পার্থ এখনও জেলে।
এরপর একের পর এক দুর্নীতির মামলায় নাম জড়ায় পার্থর। নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি— সবেতেই নাম রয়েছে তাঁর। একাধিকবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিন চেয়েছেন তিনি। অধিকাংশ মামলায় ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, একজন অভিযুক্তকে দীর্ঘদিন জেলে রাখা আইনসম্মত নয়, যদি না প্রমাণসহ চার্জশিট পেশ করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের গতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, এতদিন পরেও যদি মূল মামলায় রায় না আসে, তাহলে তা প্রশ্ন তো তুলবেই।
সবমিলিয়ে, প্রায় তিন বছর পর পার্থর কারামুক্তির আশায় এখন টানটান অপেক্ষা। হাইকোর্টের রায়ের দিকেই তাকিয়ে সব মহল।