২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বরানগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন পার্নো।
.jpeg.webp)
তৃণমূলে ভবনে পার্নো মিত্র।
শেষ আপডেট: 26 December 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক। শুক্রবার ঘাসফুল শিবিরে (TMC) যোগ দিলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী পার্নো মিত্র (Parno Mitra)।
এদিন তৃণমূল ভবনে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও রাজ্যের সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন পার্নো। চন্দ্রিমা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে আকৃষ্ট হয়ে তৃণমূলে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন পার্নো। নেত্রীর সম্মতিক্রমে এদিন ওকে দলে নেওয়া হল।
আর পার্নো বলেন, "একথা ঠিক আমি বেশ কয়েকবছর আগে রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তবে মানুষ মাত্রেই তো ভুল করে থাকে। আমারও ভুল সংশোধনের সময় এসেছে, তাই বাংলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই তৃণমূলে যোগদান করলাম।"
ভোটের মুখে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে পার্নোর যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পার্নো মিত্রর অভিনয় জীবনের শুরু ২০০৭ সালে। ছোটপর্দায় রবি ওঝার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘খেলা’-তেই প্রথম দর্শকের নজরে আসেন তিনি। এরপর বড়পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটান অঞ্জন দত্ত। ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’ ছবির নায়িকা হিসেবে পার্নো আলাদা করে পরিচিতি পান।
এর পর একের পর এক উল্লেখযোগ্য ছবিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পার্নোর ঝুলিতে রয়েছে ‘বেডরুম’, ‘মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর’, ‘রাজকাহিনী’, ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’, ‘অপুর পাঁচালি’, ‘অঙ্ক কী কঠিন’-এর মতো সমালোচিত ও জনপ্রিয় ছবি। চরিত্র বাছাই ও অভিনয়ের স্বকীয়তায় বাংলা ছবিতে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন তিনি।
রাজনীতিতে তাঁর পা রাখা ২০১৯ সালে। সেই বছরই পদ্মশিবিরে যোগ দেন পার্নো। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বরানগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন পার্নো। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি। তারপর থেকে রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।
বিজেপির অন্দরে তাঁর সক্রিয়তা কমে আসা এবং তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, এই দুই মিলিয়েই আজকের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, সাংস্কৃতিক জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে পার্নোর যোগদান দলকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে শহর কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগাতে চাইছে শাসকদল।
অন্যদিকে, বিজেপির অন্দরে এই ঘটনায় যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। দলবদলের রাজনীতিতে আরও এক পরিচিত মুখের সংযোজন রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।