পুলিশকর্মী অনুপ দত্তকে গ্রেফতারের (Police Arrest) দাবিতে তাঁরা শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ঘটনার আগে তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের-সহ আরও কয়েক জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 February 2026 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর-কাণ্ডে (RG Kar Case) তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। পুলিশকর্মী অনুপ দত্তকে গ্রেফতারের (Police Arrest) দাবিতে তাঁরা শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ঘটনার আগে তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের-সহ আরও কয়েক জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা।
আবেদনে পলিগ্রাফ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি রয়ে গিয়েছে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তাঁরা। এমনকি সিবিআইয়ের ভূমিকাও (CBI RG Kar Case) প্রশ্নের মুখে তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার।
শিয়ালদহ আদালত ইতিমধ্যেই আবেদন গ্রহণ করেছে। সূত্রের খবর, এ দিন দুপুরেই বিষয়টি নিয়ে শুনানি হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তরুণী চিকিৎসকের পরিবার-সহ গোটা রাজ্য।
আরজি কর-কাণ্ডে (RG Kar Incident) ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। তবু বিচার মেলেনি— এমনই অভিযোগ নির্যাতিতার বাবা-মায়ের। তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণ সত্য এখনও সামনে আসেনি। প্রৌঢ় দম্পতির কথায়, অপরাধে এক জন নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত। সেই সূত্রে তাঁদের করা মামলা এখনও বিচারাধীন।
নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, আরজি কর-কাণ্ডের ডিএনএ রিপোর্টে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু তদন্ত সেই দিক ধরে এগোয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। তাঁর কথায়, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়নি। নির্যাতিতার মা-ও একই দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় একা নন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও কয়েক জন।
এ দিকে, আদালতে তাঁদের দায়ের করা মামলার শুনানি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, মামলাটি বারবার তালিকাভুক্ত হলেও শুনানির জন্য কার্যত উঠছে না। প্রতিদিন লিস্টে নাম থাকলেও ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে শুনানি। ফলে কার্যত বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে না বলেই দাবি তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের আর্জি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, এবং সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।