শিল্পী দেবপ্রসাদ মালাকারের ডাক নাম রাসু। আর্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তিনি। গত দু’দশক ধরে ‘মিনিয়েচার’ বা ক্ষুদ্র মূর্তি তৈরিই তাঁর নেশা ও সাধনা।

মূর্তি গড়ছেন শিল্পী
শেষ আপডেট: 11 September 2025 16:49
আখের আঁশ থেকে ফুটে উঠেছে দেবীর মুখ! দুর্গাপুজোর আগে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পলতা শান্তিনগরের বাসিন্দা শিল্পী দেবপ্রসাদ মালাকার ফের তাক লাগালেন তাঁর অনন্য সৃষ্টিতে। মাত্র দুই সেন্টিমিটারে দুর্গা মূর্তি গড়লেন তিনি।
শিল্পী দেবপ্রসাদ মালাকারের ডাক নাম রাসু। আর্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তিনি। গত দু’দশক ধরে ‘মিনিয়েচার’ বা ক্ষুদ্র মূর্তি তৈরিই তাঁর নেশা ও সাধনা। ২০০০ সালে মাটি দিয়ে প্রথম ক্ষুদ্র মূর্তি গড়েছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে নানা উপাদান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। কখনও কচুরিপানা, কখনও চক, আবার কখনও রবার—অসাধারণ নৈপুণ্য়ে এই সব দৈনন্দিন উপকরণকে কাজে লাগিয়ে মা দুর্গার ক্ষুদ্র মূর্তি বানিয়ে তাক লাগিয়েছেন শিল্পপ্রেমীদের।
তবে এবারের সৃষ্টি একেবারেই আলাদা। নিজের বাড়ির বাগানের আখগাছ থেকে রস বের করে যে ছিবড়া বাকি থাকে, সেখান থেকেই আঁশ আলাদা করে তৈরি করেছেন ক্ষুদ্রতম দুর্গা। সূক্ষ্ম হাতে তৈরি এই প্রতিমার উচ্চতা মাত্র দুই সেন্টিমিটার। শিল্পীর কথায়, “মিনিয়েচারের প্রতি ভালোবাসাই আমাকে প্রতি বছর নতুন কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করে। আসলে এই মিনিয়েচার তৈরি করা প্রত্যেক শিল্পীর কাছেই চ্য়ালেঞ্জ। কারণ যে কোনও মিনিয়েচার তৈরির জন্য বাড়তি মনোযোগ ও দক্ষতা দরকার।”
মিনিয়েচার বানিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে পুরস্কৃত হয়েছেন দেবপ্রসাদবাবু। কিন্তু তাতেই থেমে থাকার মানুষ নন তিনি। এবার যেমন পরিবারের সঙ্গে মিলে গড়ছেন পুজোর বড় প্রতিমা, পাশাপাশি মন প্রাণ ঢেলে বানাচ্ছেন এই ক্ষুদ্র মূর্তিও। তাঁর ইচ্ছা, আগামী দিনে প্রদর্শনীর মাধ্যমে আরও অনেকের কাছে এই শিল্পকর্ম পৌঁছে দেওয়া। দেবপ্রসাদবাবু বলেন, "এক টুকরো আঁশ বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসও শিল্পীর হাতে সৃষ্টির উপকরণ হতে পারে। বছরের পর বছর মিনিয়েচারের প্রতি এই অগাধ ভালোবাসা বেঁচে থাকুক আমার।'