দ্য ওয়াল ব্যুরো : ব্যাপক হারে অর্থ তছরুপ। সেইসঙ্গে জঙ্গিদের অর্থসাহায্য করা। এই দু'টি অভিযোগে এক বছর আগেই পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করেছিল ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স। এবার পাকিস্তানকে সরাসরি কালো তালিকাভুকদল করতে পারে ওই সংস্থা। সেক্ষেত্রে কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ পেতে অসুবিধা হবে পাকিস্তানের।
সন্ত্রাসবাদে অর্থসাহায্য ও অর্থ তছরুপ বন্ধ করতে পাকিস্তান কী ব্যবস্থা নিয়েছে জানার জন্য কিছুদিন আগেই খোঁজখবর নিয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক জয়েন্ট গ্রুপ। ওই সংস্থাটি এফএটিএফের সাব গ্রুপ হিসাবে পরিচিত। তার অফিসাররা কিছুদিন আগে পাকিস্তানের প্রশাসনের কয়েকজন কর্তার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এফএটিএফ মোট ২৭ টি প্রশ্নের ভিত্তিতে কোনও দেশের অর্থনীতির মূল্যায়ন করে। কিন্তু পাকিস্তান মাত্র ছ'টি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পেরেছে। ১১ টি প্রশ্নের উত্তর পরে দেবে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আগে ব্যাঙ্ককে এক বৈঠকে বসে এফএটিএ। তখনই জানা যায়, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলের কথা না মেনে সন্ত্রাসবাদে অর্থসাহায্য করে চলেছে। অর্থ তছরুপ বন্ধ করার জন্যও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অক্টোবরে প্যারিসে এফএটিএ-র প্লেনারি অধিবেশন বসবে। তখনই পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
২০১৮ সালের জুন মাসে এফএটিএফ পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করেছিল। তখন ইসলামাবাদকে বলা হয়েছিল, ১৫ মাসের মধ্যে ২৭ টি প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে সেপ্টেম্বর মাসে। পাকিস্তানকে এর মধ্যে প্রমাণ করতে হবে, তারা সন্ত্রাসবাদে অর্থসাহায্য বন্ধ করার জন্য স্থায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। তবেই কালো তালিকাভুক্ত হওয়া এড়াতে পারবে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে সেকথা প্রমাণ করা কঠিন কাজ।
এফএটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের বিভিন্ন সংস্থা দাইশ, আল কায়েদা, জামাত উদ দাওয়া, ফালা ই ইনসানিয়ত, লস্কর ই তৈবা, হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও তালিবানের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যক্তিকে নিয়মিত অর্থ সাহায্য করে থাকে। বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও পাকিস্তানের প্রশাসন সেই সাহায্য বন্ধ করার চেষ্টা করেনি।