দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাসিরুদ্দিন শাহ্-র সাম্প্রতিকতম মন্তব্য প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেছেন, "ভারতে মুসলিমদের প্রতি কোনও সহিষ্ণুতা নেই।" এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান খানকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি।
রবিবার বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র পাকিস্তানকে 'টেররিস্তান' বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, "৯/১১-র মূল চক্রী ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয় যে দেশ, তার কাছে ভারতের সহিষ্ণুতা শেখার কোনও দরকার নেই। পাকিস্তান তালিবানের বন্ধু।"
লাহোরে পাঞ্জাব সরকারের সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই দিন ইমরান খান জানান, তিনি ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে শেখাতে চান, কী ভাবে নাগরিকের অধিকার রক্ষা করতে হয়। নাসিরুদ্দিন শাহ্-র মন্তব্য প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, "মোদী সরকারকে শেখাব, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কী রকম ব্যবহার করতে হয় সরকারকে। ভারতের মানুষই বলে, সেখানে সংখ্যালঘুরা মোটেই সমান নাগরিক অধিকার পায় না।"
এর উত্তরে সম্বিত পাত্র বলেন, "ইমরান খান এ সব কংগ্রেসকে শেখাতে পারে। কারণ কংগ্রেস তো এই দেশকে 'অ্যাঞ্জেলিক' বলে মনে করে।" সম্প্রতি ইমরান খানের নিমন্ত্রণে নভজ্যোৎ সিং সিধুর দু'-দু'বার পাকিস্তানে যাওয়ার প্রসঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।
সম্বিত পাত্র আরও বলেন, "ইউপিএ এখন ন'হাজার ফোনকল এবং পাঁচশোর ইমেলের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে নাক গলানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।"
বৃহস্পতিবার নাসিরুদ্দিন শাহ্ মন্তব্য করেন, "আমি ভয় পাচ্ছি, আমার সন্তানকে ঘিরে ধরে এক দিন উন্মত্ত লোকজন জিজ্ঞেস করবে, তারা হিন্দু না মুসলিম। ভারতের সমাজে ধর্মান্ধতার বিষ ছড়িয়ে গেছে।" বুলন্দশহরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন বলেন, "আমরা দেখছি, এখন একটি গরুর মৃত্যু এক জন পুলিশ অফিসারের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
নাসিরুদ্দিন শাহ্-র এই মন্তব্যের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। এখানেই শেষ নয়। রবিবার একটি সংবাদপত্রে নাসিরুদ্দিন শাহ্ দাবি করেছেন, "আমার মনে হয়, ইমরান খানের উচিত নিজের দেশের সমস্যাগুলো মেটানো। আমরা ৭০ বছর ধরে গণতন্ত্র পালন করছি। আমরা নিজেদের খেয়াল রাখতে পারব।"