
শেষ আপডেট: 11 December 2020 18:30
কাপুর হাভেলি[/caption]
১৯৯৮ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে পেশোয়ার শহরের প্রাণকেন্দ্র কিস্যা খোয়ানি বাজারে বাড়ি তৈরি করেছিলেন রাজ কাপুরের ঠাকুর্দা দেওয়ান বশেশ্বরনাথ কাপুর। ছয় মহলা প্রাসাদের মতো এই বাড়ির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কাপুর হাভেলি’ । এই বাড়িতে জন্মেছিলেন রাজ কাপুরের কাকা ত্রিলোক কাপুর। রাজ কাপুরের জন্মও এই বাড়িতেই ১৯২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর।
কাপুর হাভেলি থেকে কিচু দূরেই রয়েছে বলিউডের আরও এক কিংবদন্তী অভিনেতা দিলীপ কুমারের পৈতৃক অট্টালিকা। চার মহলা সে বাড়িও প্রাসাদের মতোই। বাড়ির খোলস জরাজীর্ণ হয়ে গেলেও ঐতিহ্যের বিচারে আর শৈল্পিক ভাবনায় কোনও তুলনাই হয় না। এই বাড়িও ১০০ বছরের পুরনো। ২০১৪ সালে এই বাড়িটিকে জাতীয় হেরিটেজ ঘোষণা করেছিল তৎকালীন নওয়াজ শরিফ সরকার।
ধ্বংসপ্রাপ্ত দুই বাড়ি ভেঙে দেওয়ার একাধিক প্রস্তাব এসেছিল পাক সরকারের কাছে। তবে বলিউড অভিনেতা প্রয়াত ঋষি কাপুর সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ করেন দুই বাড়িই যেন মর্যাদার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। দুই অট্টালিকাকে মিউজিয়াম বানানোর বা ভেতরে কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি করার আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি। সে অনুরোধে সম্মতি দিয়েছিল পাক সরকার। ২০১৮ সালে পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশি আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন দুই বাড়িই কিনে নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করবে সরকার। সরকারিভাবে বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে।
বর্তমানে দুই বাড়ির মালিকই দুই স্থানীয় ব্যক্তি। কাপুর হাভেলির মালিক আলি কদর। তাঁরও দাবি যে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে না। তাই স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ববিভাগের সঙ্গে চুক্তি করে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালানো হচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান আব্দুস সামাদ খান বলেছেন, দুই বাড়িরই ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। দুই কিংবদন্তী তারকার শৈশবের স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে বাড়ির আনাচ কানাচে। শতাব্দী প্রাচীন দুই বাড়ির ঐতিহ্যকে রক্ষা করবে পাক সরকার। সেই প্রচেষ্টাই শুরু হয়েছে।