অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক নির্যাতনের জেরে মৃত্যু হল মানিকচকের এক অস্থায়ী পঞ্চায়েত কর্মীর। সহকর্মীদের অভিযোগ, বিডিওর লাগাতার চাপ ও হুমকির ফলেই ঘটেছে এই মৃত্যু।

বিডিও অফিসের সামনের ছবি
শেষ আপডেট: 14 October 2025 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক নির্যাতনের জেরে মৃত্যু হল এক অস্থায়ী পঞ্চায়েত কর্মীর। মৃতের নাম যদু মণ্ডল (৩৫)। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহর মানিকচক ব্লকে। সোমবার সকাল থেকে এই অভিযোগে বিডিও অফিস ঘেরাও করেন তাঁর সহকর্মীরা, ক্ষোভে ফেটে পড়েন সকলেই। তাঁদের অভিযোগ, ব্লকের বিডিও অনুপ চক্রবর্তীর অমানবিক কাজের চাপ এবং লাগাতার হুমকির ফলেই মৃত্যু হয়েছে যদুর।
দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অস্থায়ী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ছিলেন ওই ব্যক্তি। শনিবার কাজের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে গেলে সহকর্মীরা প্রথমে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় মালদহ মেডিক্যালে, সেখানে সোমবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা মনে করছেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ক্লান্তির জেরে ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে যদুর।
সহকর্মী সঞ্জীব কুমার মিশ্র বলেন, 'SIR নিয়ে আলোচনার পর থেকে বিডিও সাহেব আমাদের ওপর অকল্পনীয় চাপ দিচ্ছেন। সকাল ৭টার মধ্যে অফিসে যেতে হচ্ছে, কাজ শেষ হচ্ছে রাত ১১টা বা ১২টায়। বাড়িতেও লগইন করে কাজ করতে হতো।' সহকর্মীদের আরও অভিযোগ, যদু অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ছুটি নিতে পারেননি। কারণ, ছুটি নিলে 'বেতন বন্ধ করে দেওয়া হবে' বলে নাকি হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
মৃতের ভাই রবীন্দ্র মণ্ডল বলেন, 'দাদা প্রতিদিন সকাল ছ’টায় বেরোত, ফিরত রাত বারোটায়। বলত, কাজ না করলে টাকা বন্ধ করে দেবেন বিডিও সাহেব। এত পরিশ্রম সহ্য করতে পারেনি। আমরা তদন্ত চাই।' মৃতের স্ত্রী পম্পা মণ্ডলও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার স্বামীই ছিল সংসারের একমাত্র ভরসা। বিডিওর মানসিক নির্যাতনের কারণেই
ওর মৃত্যু হয়েছে। আমি ন্যায় চাই।'
তৃণমূল পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের মানিকচক ব্লক সভাপতি আব্দুল হালিম জানান, বহুদিন ধরে অস্থায়ী কর্মীদের ওপর অমানবিক কাজের চাপ দেওয়া হচ্ছিল। যারা ১০-১২ হাজার টাকায় কাজ করছে, তাঁদের দিনরাত কাজ করানো হচ্ছে। যদুর মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা। তিনি বলেন, 'আমরা এই ঘটনার রিপোর্ট উচ্চপর্যায়ে পাঠাব এবং বিডিওর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা দাবি করব।'
ঘটনার পর থেকে বিডিও অনুপ চক্রবর্তী মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার অফিসেও তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া এনিয়ে বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি আরও জানান, 'অস্থায়ী পঞ্চায়েত কর্মীদের কাজের পরিবেশ সম্পর্কেও খতিয়ে দেখা হবে।'
যদু মণ্ডলের বাড়ি ভুতনি থানার হিরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকসেনা এলাকায়। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, দুই নাবালক সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, যদু ছিলেন শান্ত, পরিশ্রমী মানুষ। অফিসের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে পারেননি। এলাকাজুড়ে এখন শোক আর ক্ষোভের মিশ্র আবহ।