SSC-র একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগের নথি যাচাইয়ে সামনে এল বড়সড় জালিয়াতি।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 November 2025 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর ২০২৫ সালের একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার নথি যাচাই পর্বে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত পাঁচ দিনে প্রায় ৪২০০ জন প্রার্থীর নথি যাচাই করার সময়ই ৩০০ জনেরও বেশি প্রার্থী ভুয়ো বা জাল নথি (Fake Documents) জমা দিয়ে আবেদন করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। অর্থাৎ, মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় সাড়ে সাত শতাংশই ভুয়ো নথি-সহ আবেদন করেছেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শিক্ষকতার আগাম অভিজ্ঞতার (Prior Teaching Experience) শংসাপত্র এবং জাতিগত শংসাপত্রের গরমিল। কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, একাদশ-দ্বাদশের ৩৫টি বিষয়ের মধ্যে প্রথম যে ছ'টি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, কম্পিউটার সায়েন্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং কমার্স) নথি যাচাই করা হয়েছে, সেখানেই এই বিপুল সংখ্যক জালিয়াতি ধরা পড়ে।
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, 'যোগ্য' চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার জন্য সর্বোচ্চ ১০ নম্বর দেওয়ার কথা ছিল। বহু প্রার্থী সেই ১০ নম্বর নিশ্চিত করতে ভুয়ো শংসাপত্র (Fake Certificates) জমা দিয়েছেন, যেখানে পুরোনো স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নকল সইও পাওয়া গেছে। জাল নথির কারণে ৩০০ জনের বেশি প্রার্থীর পদ খারিজ হওয়ার পাশাপাশি, আরও ২০০ জন আবেদনকারী নথি যাচাইয়ে অংশই নেননি, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই গরহাজির প্রার্থীরা কি ২০১৬ সালের বিতর্কিত ('টেন্টেড') নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত, নাকি তাঁরা অন্য কোনও চাকরি পেয়ে গেছেন—সে বিষয়ে কমিশন এখনও স্পষ্ট নয়। এত বছর পর নিয়োগ হলেও কীভাবে এত বেশি প্রার্থী ভুয়ো নথি জমা দিতে পারলেন, তা নিয়েও শিক্ষা মহলে পদ্ধতিগত ত্রুটির (Procedural Error) প্রশ্ন উঠেছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের মতে, অনলাইনে আবেদনের সময়ে অনেকেই তথ্য ভুল জমা দিয়েছিলেন। সে সব তথ্যই যাচাই করা হচ্ছে। তথ্যে ভুল থাকলে এমনিতেই আর যোগ্যতা থাকবে না।
স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তবে ৩৫টি বিষয়ে সাড়ে ২০ হাজার প্রার্থীর নথি যাচাই যখন ৪ ডিসেম্বর শেষ হবে, তখন ভুয়ো নথির সংখ্যা তিনশো ছাপিয়ে অনেক বাড়বে বলেই মনে হয়।'
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ প্যানেল সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ার পর এই নিয়োগ হচ্ছে। অভিজ্ঞতার শংসাপত্রে এত বড় জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় কমিশনও বর্তমানে অস্বস্তিতে রয়েছে।