দ্য ওয়াল ব্যুরো : তাঁকে বলা হত জেহাদের ‘ক্রাউন প্রিন্স’। তিনি আল কায়েদার প্রাক্তন প্রধান ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা বিন লাদেন। বাবার অবর্তমানে তিনি যাতে সংগঠনের দায়িত্ব নিতে পারেন, সেজন্য তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। আমেরিকার বিদেশ দফতর তাঁর মাথার দাম ধার্য করেছিল ১০ লক্ষ ডলার। কিন্তু বুধবার আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, মারা গিয়েছেন হামজা। গত দু’বছরের মধ্যে কোনও এক সময় তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। সম্ভবত মাথার দাম ধার্য হওয়ার আগেই তার মৃত্যু ঘটেছিল। যে দেশগুলি হামজাকে মারার অভিযানে যোগ দিয়েছিল, তাদের অন্যতম আমেরিকা।
হামজার মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমত, আমেরিকা যদি হামজাকে খতম করার অভিযানে অংশ নিয়ে থাকে, তাহলে পরে তারই মাথার দাম ধার্য করল কেন? দ্বিতীয়ত, কোথায়, কখন হামজা মারা গিয়েছেন, তা জানানো হচ্ছে না কেন? ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আমেরিকার নেভি সিলদের হানায় ওসামা-বিন-লাদেন নিহত হন। তখন আমেরিকা থেকে তাঁর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু হামজার বেলায় কিছু ঘোষণা করা হল না কেন? এই দু’টি প্রশ্নকে ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য।
আমেরিকার এনবিসি নিউজে বলা হয়েছে, কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় অফিসার হামজার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। কিন্তু কখন কোথায় তিনি মারা গিয়েছেন জানা যায়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমসও একইভাবে দুই অফিসারকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, গত দু’বছরের মধ্যে হামজার মৃত্যু হয়েছে। ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রিপোর্টাররা হামজার মৃত্যুর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
ওসামা বিন লাদেনের ২০ জন সন্তানের মধ্যে হামজা ছিলেন ১৫ নম্বর। লাদেনের তৃতীয় স্ত্রী হামজার ছেলে তিনি। বয়স হয়েছিল ৩০। মাঝে মাঝেই ভিডিও ও অডিও মেসেজে তাঁর বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বলতেন। আমেরিকা ও অন্যান্য দেশে আক্রমণের প্রতিশোধ নিতে বলতেন।
আমেরিকার বাহিনী অ্যাবোটাবাদে লাদেনের ডেরায় একটি ভিডিও পেয়েছিল যাতে দেখা যায়, হামজার বিয়ে হচ্ছে। পাত্রী আল কায়েদারই এক বড় নেতার মেয়ে। সম্ভবত ইরানে ওই বিয়ে হয়েছিল। হামজা ঠিক কোথায় থাকতেন কখনও নির্দিষ্ট করে জানা যেত না। একটি সূত্রে শোনা গিয়েছিল, ইরানে তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। অন্যান্য সূত্রে শোনা যেত তিনি আফগানিস্তান, পাকিস্তানে এমনকী সিরিয়াতেও থাকতে পারেন।