অপারেশন সিন্দুরের (Operation Sindur) গৌরবগাথা এবার উঠে এসেছে আলোকবাজির ঝলকে।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 18 October 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শব্দবাজির দিন শেষ! কিন্তু বাজির দুনিয়ায় বুড়িমা এখনও ব্র্যান্ড। এক সময় যাঁর ‘চকোলেট বোমা’ মানেই দীপাবলির চূড়ান্ত উত্তেজনা, সেই বুড়িমা (Burima's Fireworks) এখন কালীপুজোয় (Kali Puja) মাত করছেন ট্যাঙ্ক, ড্রোন আর হেলিকপ্টার নিয়ে।
বেলুড়ের পিয়ারীমোহন মুখার্জি স্ট্রিটে বুড়িমার বাড়ির সামনে এখন হুড়োহুড়ি, কারও হাতে অর্জুন ট্যাঙ্ক, কেউ ড্রোন উড়িয়ে দেখছে কেমন ঘোরে! আট থেকে আশি— সবাই যেন ফের ছেলেবেলায় ফিরে গিয়েছে।
অপারেশন সিন্দুরের (Operation Sindur) গৌরবগাথা এবার উঠে এসেছে আলোকবাজির ঝলকে। অর্জুন ট্যাঙ্ক থেকে বেরোচ্ছে তুবড়ির ফ্ল্যাশ, তারপর আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে এরিয়াল শট। দাম? ৪০০ টাকায় ভরপুর গর্ব!
ড্রোন বাজি শুধু ঘোরেই না, ওঠে-নামে, ঠিক যেন ছোট্ট যোদ্ধা। দাম ১৫০-২০০ টাকা। আর সবার মন কেড়েছে হেলিকপ্টার— ঘুরতে ঘুরতে আকাশে উড়ে নানা রঙের ছটায় মুগ্ধ করছে পাড়া-মহল্লা। পাঁচ পিসের বাক্সের দাম ১৫০ টাকা।
ক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক ক্রেতা বললেন, “অপারেশন সিন্দুরের বাজিগুলো দারুণ লাগছে। বাচ্চারা তো এগুলোই চাইছে।” খুদে অহনা সরকার জানাল, “আমরা ট্যাঙ্ক কিনেছি অনেকগুলো, বাড়িতে ড্রোনও ওড়াব!”
তামিলনাড়ুর কারখানায় তৈরি হয় বুড়িমার বাজি। সেখান থেকে আসে হাওড়ার গুদামে, তারপর ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যজুড়ে। বুড়িমার বর্তমান প্রজন্মের সদস্য সুমিত দাসের কথায়, “বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টি হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। তবুও চেষ্টা করছি চাহিদা মেটাতে। এখন আলোকবাজির মধ্যেই নতুনত্ব আনছি।”
এই ব্র্যান্ডের গল্পও কম সিনেমাটিক নয়। বুড়িমা অর্থাৎ অন্নপূর্ণা দাস। দেশভাগের পর অনটনে পড়ে দুই ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন এপারে। বিড়ি বাঁধা থেকে শুরু করে সেলাই, শেষে কালীপুজোর আগে হাতে নেন বাজির ব্যবসা। আর সেই থেকেই জন্ম নেয় এক কিংবদন্তি নাম— ‘বুড়িমা বাজি’।
চকোলেট বোমা থেকে শুরু, এখন অর্জুন ট্যাঙ্ক, হেলিকপ্টার। সময় বদলেছে, আইন বদলেছে, কিন্তু বুড়িমার ঝলক আজও অমলিন।