রাত তখন ঘনিয়ে এসেছে। বাতাসে ধূপের গন্ধ, দূরে কোথাও শোনা যাচ্ছে শাঁখের শব্দ।কিন্তু মাটিতে যেন অজানা এক ছায়া! কারণ এ রাত ভূত চতুর্দশীর (Bhoot Chaturdashi)!

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 18 October 2025 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত তখন ঘনিয়ে এসেছে। বাতাসে ধূপের গন্ধ, দূরে কোথাও শোনা যাচ্ছে শাঁখের শব্দ। কিন্তু মাটিতে যেন অজানা এক ছায়া! কারণ এ রাত ভূত চতুর্দশীর (Bhoot Chaturdashi)— যে রাতটিকে ঘিরে আছে রহস্য, ভয় আর একটুকরো বিশ্বাসের গল্প।
বাঙালির ঘরে ঘরে এই রাতে জ্বলে ওঠে চোদ্দ প্রদীপ। জানেন কেন? কেউ বলেন, এই আলো নাকি ভূত তাড়ায়। আবার কেউ বলেন, এই আলোর দিশাতেই নাকি ফিরে আসেন ‘তেঁনারা’—আমাদের প্রিয় পূর্বপুরুষরা, যাঁরা একদিন এই ঘরেরই অংশ ছিলেন।
শাস্ত্র বলে, এই দিনে খুলে যায় স্বর্গ আর পাতালের দরজা। আত্মারা ফিরে আসেন মর্ত্যে—কেউ আশীর্বাদ দিতে, কেউ হয়তো প্রিয়জনের মুখ আর একবার দেখতে। কেউ বলেন, রাজা বলি এই রাতে আসেন পৃথিবীতে, সঙ্গে নিয়ে আসেন তাঁর অদ্ভুত সেই ভূত সেনা!
তাই তো এই রাতে বাড়ির চৌকাঠে, বারান্দায়, রান্নাঘরে, উঠোনে—যেখানেই ছায়া, সেখানেই আলো জ্বালিয়ে রাখে বাঙালি।
একেকটা প্রদীপ মানে একেকটা প্রার্থনা—“অশুভ দূরে যাক, আলোয় ভরে উঠুক আমার ঘর।”
‘চোদ্দ’ সংখ্যার মধ্যেও লুকিয়ে আছে তিথির ইঙ্গিত। চতুর্দশী মানেই চোদ্দ, আর এই চোদ্দ প্রদীপ যেন জীবনের চোদ্দ অধ্যায়ের মতো—অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার প্রতীক।
বহু শতাব্দী পেরিয়েও, এই বিশ্বাস আজও টিকে আছে আগুনের মতো উজ্জ্বল। আজও ভূত চতুর্দশীর রাতে, প্রদীপের মৃদু শিখা দুলে উঠলে মনে হয়—হয়তো কোথাও দাঁড়িয়ে আছেন তেঁনারা, একটুখানি আলো খুঁজে...একটুখানি ভালবাসা পেতে।
এ বছর কবে সেই রহস্যময় রাত?
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা বলছে—ভূত চতুর্দশী পড়ছে ১৯ অক্টোবর, রবিবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে শুরু হয়ে চলবে ২০ অক্টোবর, সোমবার দুপুর ২টো ৫৫ পর্যন্ত। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ীও সময় প্রায় কাছাকাছি—রবিবার দুপুর ১টা ৫৩ মিনিট থেকে সোমবার বিকেল ৩টে ৪৫ পর্যন্ত। অর্থাৎ কালীপুজোর আগের রাতেই নামবে সেই রহস্যময় অন্ধকার...!