মঙ্গলবার পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই বুকে ব্যথা ও ঘামতে শুরু করেন মনোরঞ্জন। মুহূর্তের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন পরীক্ষার হলে। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। বুধবার তাঁকে গ্রিন করিডর তৈরি করে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 18 October 2025 08:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২১ বছর বয়স (Heart attack at the age of 21)। হাতে স্টেথোস্কোপ তোলার স্বপ্ন। আর সেই বয়সেই হার্ট অ্যাটাক! মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র মনোরঞ্জন মুদীর ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্র। চিকিৎসকদের তৎপরতায় এবং পিজি হাসপাতালের দ্রুত সিদ্ধান্তে প্রাণে বাঁচলেন চিকিৎসক-হতে-চাওয়া এই ছাত্র (Medical Student Finding new life in PG treatment)।
পিজি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করার পর গঠন করা হয় বিশেষ মেডিকেল বোর্ড। বৃহস্পতিবার সকালে সেই বোর্ডের বৈঠকে মতভেদ দেখা দেয়—একাংশ অ্যাঞ্জিয়োপ্ল্যাস্টি না করার পক্ষেই ছিলেন। কিন্তু বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল দৃঢ়ভাবে বলেন, “ছেলেটার বয়স মাত্র ২১, সামনে গোটা জীবন পড়ে আছে। একটুও ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। রিপোর্ট বলছে ধমনিতে গুরুতর ব্লক রয়েছে, তাই অ্যাঞ্জিয়োপ্ল্যাস্টিই সঠিক সিদ্ধান্ত।”
শেষমেশ চিকিৎসক মণ্ডলের মতই মানেন বোর্ডের সদস্যরা। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, মনোরঞ্জনের হৃদয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধমনি — Left Anterior Descending Artery (LAD) তে ৭০ শতাংশেরও বেশি ব্লক। এরপর কার্ডিয়োলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক গৌতম দত্ত নিজে স্টেন্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। সফলভাবে স্টেন্ট প্রতিস্থাপনের পর রোগীকে আপাতত আইসিইউ-তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই বুকে ব্যথা ও ঘামতে শুরু করেন মনোরঞ্জন। মুহূর্তের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন পরীক্ষার হলে। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। বুধবার তাঁকে গ্রিন করিডর তৈরি করে পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
পিজি সূত্রে খবর, মনোরঞ্জনের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পরবর্তী কয়েকদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলবে।
এক তরুণ মেডিকেল ছাত্রের এই ঘটনা চিকিৎসক মহলেও চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। কমবয়সীদের মধ্যে বাড়তে থাকা হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নতুন করে।