দিঘিরোড সংস্কারের বহু প্রতীক্ষিত কাজ শুরু হতেই এখন বসিরহাট দক্ষিণের (Basirhat Dakshin) রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে এক নতুন ধাঁধা, “এক রাস্তা, তিন অঙ্ক, প্রকৃত বরাদ্দ কত হে?”

বসিরহাট, প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 February 2026 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসিরহাটে (Basirhat) পাটিগণিতের নিয়ম বোধ হয় একটু আলাদা। বিশেষ করে যখন প্রশ্ন ওঠে সরকারি বরাদ্দের, তখন দুই আর দুইয়ে চার হওয়া তো দূরস্থান, খোদ জনপ্রতিনিধির দাবি আর সরকারি ফলকের তথ্যে কয়েক কোটি টাকার ফারাক ফুটে ওঠে। দিঘিরোড সংস্কারের বহু প্রতীক্ষিত কাজ শুরু হতেই এখন বসিরহাট দক্ষিণের (Basirhat Dakshin) রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে এক নতুন ধাঁধা, “এক রাস্তা, তিন অঙ্ক, প্রকৃত বরাদ্দ কত হে?”
গোলমালের সূত্রপাত
দীর্ঘ বঞ্চনার পর অবশেষে দিঘিরোডের (Dighi Road) কঙ্কালসার চেহারায় প্রলেপ পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু উন্নয়নের সেই আনন্দ নিমেষেই ‘বিভ্রান্তি’র মেঘে ঢেকে গেল যখন বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় (Saptarshi Banerjee) সমাজমাধ্যমে তাঁর খুশির বার্তাটি পোস্ট করলেন। বিধায়ক মহোদয়ের দাবি অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৮ কোটি ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৮৩ টাকা। ঠিক যেন কোনও ক্যুইজ প্রতিযোগিতার নিখুঁত উত্তর! কিন্তু গোল বাঁধল রাস্তার ধারে টাঙানো সরকারি ফলক দেখে। সেখানে জ্বলজ্বল করছে ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ ১১ হাজার ৯৭৬ টাকার হিসাব। হিসাব মেলানোর জন্য যখন টেন্ডারের কাগজ খোলা হল, তখন সেখানে দেখা গেল আরও এক গোলমেলে সংখ্যা, ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯ হাজার ১৬৭ টাকা।

পাটিগণিত বনাম ‘জন’গণিত
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একই রাস্তার জন্য নবান্ন বা জেলা প্রশাসন কি তবে তিনটি আলাদা শাখা খুলেছে? না কি অঙ্ক কষার সময় দশমিকের হিসেবে কোনও অলৌকিক কেরামতি ঘটেছে? স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর দিঘিরোড থেকে হাসপাতাল রোডের যে নরককঙ্কাল দশা তাঁরা সহ্য করেছেন, তার বিনিময়ে এই ‘অঙ্ক-বিভ্রাট’ এক ধরনের পরিহাস। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত ছিল, তখন কোনও জনপ্রতিনিধির দেখা মেলেনি; আর যখন কাজ শুরু হল, তখন কৃতিত্বের লড়াইয়ে সংখ্যার ফানুস ওড়ানো হচ্ছে কেন, উঠছে সেই প্রশ্নও।
উত্তরের অপেক্ষায় বসিরহাট
বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই ব্যঙ্গ করতে ছাড়ছে না। তাদের খোঁচা, “রাস্তায় পিচ কতটা পড়বে জানি না, তবে বিধায়কের পোস্টে টাকার যে স্তর পড়েছে, তা দিয়ে নতুন একটি রাস্তা অনায়াসেই হয়ে যেত।” প্রশাসনিক গরমিল না কি প্রচারের বাড়াবাড়ি— এই জল্পনার মাঝে বিধায়ক অবশ্য এখনও মৌনব্রতই পালন করছেন।
সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের পয়সায় উন্নয়ন হবে, এটাই নিয়ম। কিন্তু সেই উন্নয়নের শরীরে স্বচ্ছতার বদলে যদি এমন অস্বচ্ছ অঙ্কের কুয়াশা লেগে থাকে, তবে আমজনতার মনে সন্দেহ হওয়াটাই স্বাভাবিক। বসিরহাট দক্ষিণের বাসিন্দারা এখন পিচ ঢালাই রাস্তার চেয়েও বেশি প্রতীক্ষা করছেন একটি নির্ভরযোগ্য অঙ্কের। যে অঙ্ক অন্তত খাতায়-কলমে আর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এক হবে।