মঙ্গলবার থেকে লাগাতার তিনদিন ধরে বাঁকুড়ার বারিকুল থানার মুচিকাটা গ্রামে বসে পুলিশ ও প্রশাসনকে লাগাতার চ্যালেঞ্জ দিয়ে আসছিলেন ওড়িশা থেকে আসা মাঝি সরকারের ওই নেত্রী। অভিযোগ, SIR এর ফর্ম পূরণ না করার জন্য গ্রামবাসীদের প্ররোচনা দিচ্ছিলেন।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 13 December 2025 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: তিনদিন ধরে বাঁকুড়ার বারিকুল থানা এলাকায় চলা টানাপড়েন শেষ। অবশেষে ওড়িশার পথে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে গ্রেফতার গীতা মুর্মু।
মঙ্গলবার থেকে লাগাতার তিনদিন ধরে বাঁকুড়ার বারিকুল থানার মুচিকাটা গ্রামে বসে পুলিশ ও প্রশাসনকে লাগাতার চ্যালেঞ্জ দিয়ে আসছিলেন ওড়িশা থেকে আসা মাঝি সরকারের ওই নেত্রী। অভিযোগ, SIR এর ফর্ম পূরণ না করার জন্য গ্রামবাসীদের প্ররোচনা দিচ্ছিলেন। SIR করতে অস্বীকার করা প্রায় ৬৬ জন গ্রামবাসীকে নেতৃত্বও দিচ্ছিলেন তিনি। শুক্রবার দুপুরে গীতা মুর্মু গ্রাম ছেড়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বারিকুল থানায় যান। সেখানে দফায় দফায় বৈঠক করেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে। সন্ধ্যার পরে বারিকুল থানার পুলিশ তাঁকে এসকর্ট করে ওড়িশায় নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় তাঁকে গ্রেফতার করে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার পুলিশ।
রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া শুরু হতেই গোল বাঁধে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের একাংশে। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ও পুরুলিয়ার বান্দোয়ান বিধানসভার বেশ কয়েকটি গ্রামের জনজাতি বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেন, তাঁরা অন্ত:রাষ্ট্রীয় মাঝি সরকার নামের প্রতিষ্ঠানের সদস্য পদ নেওয়ায় SIR তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই দাবি করে এনুমারেশান ফর্ম পূরণে অস্বীকার করেন তাঁরা। পুলিশ, প্রশাসন ও বিভিন্ন জনজাতি সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা গ্রামে গিয়ে বারবার বাসিন্দাদের বোঝানোর পরেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে আদিবাসীদের ওই অংশ।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ এলাকার একাধিক ব্যক্তি অন্ত:রাষ্ট্রীয় মাঝি সরকারের নামে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিয়ে জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের সদস্যপদ দিয়েছে। তাঁদের প্ররোচনাতেই SIR এ অংশ নিতে অস্বীকার করছে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার আদিবাসী বাসিন্দাদের একাংশ। এরপরই এই প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ ওড়িশা থেকে একজন এবং বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারি শুরু হতেই মঙ্গলবার ওড়িশা থেকে বাঁকুড়ার বারিকুল থানার মুচিকাটা গ্রামে হাজির হন গীতা মুর্মু নামের এক মহিলা। তিনি নিজেকে অন্ত:রাষ্ট্রীয় মাঝি সরকারের নেত্রী হিসাবে দাবি করে মুচিকাটা গ্রামে গেড়ে বসেন। তাঁকে এ রাজ্যের পুলিশ গৃহবন্দি করে রেখেছে এই দাবি করে গ্রামে বসেই তাঁকে গ্রেফতার করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। অভিযোগ, ওই গ্রামে বসেই গ্রামবাসীদের SIR প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের প্ররোচিত করতে থাকেন গীতা। যার জেরে বাঁকুড়ার মুচিকাটা ও আশপাশের গ্রামের প্রায় ৬৬ জন আদিবাসী SIR এর এনুমারেশান ফর্ম পূরণ করেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে SIR এর নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গতকাল দুপুরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বারিকুল থানায় হাজির হন গীতা মুর্মু। অন্ত:রাষ্ট্রীয় মাঝি সরকারের একের পর এক কর্মীকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে তা নিয়ে বারিকুল থানার আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন গীতা। সন্ধ্যার মুখে পুলিশ গীতাকে সঙ্গে নিয়ে ওড়িশার দিকে রওনা দেয়। স্থানীয় গ্রামবাসীদের জানায়, গীতাকে তাঁরা ওড়িশায় নিজের বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। এদিকে ওড়িশায় নিয়ে যাওয়ার পথে শুক্রবার রাতে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার পুলিশ গীতাকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য জনজাতির মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।