দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ বছরের স্কুলছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে খুন এবং পরে তার তুতো দাদার আত্মহত্যার ঘটনায় ধোঁয়াশা বাড়ছে আরও। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ওই দাদাই বোনকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেছিল। তার পরেই ভয়ে হোক বা অনুতাপে, আত্মঘাতী হয় দাদা নিজেই। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত কিশোরীর পরিবারের অবশ্য অভিযোগ, পুলিশ কোনও প্রমাণ ছাড়াই মৃত ব্যক্তিকে দোষারোপ করছে। তাই তাঁরা সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, তাদের সঙ্গে ১৫-১৫, ৩০ হাজার টাকার রফা হয়েছিল ওই দাদার। ধৃত দু'জনও কিশোরীর আত্মীয়। ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান-- এই সব খুঁটিয়ে দেখার পাশাপাশি মৃত দাদার বিভিন্ন জিনিসপত্রও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন ঘেঁটে উদ্ধার হয়েছে পুরনো চ্যাটও। পুলিশ জানিয়েছে, ওই চ্যাটে এমন কিছু পাওয়া গিয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে কিশোরী রীতিমতো বিরক্ত হচ্ছে দাদার প্রতি।
পরিবারের যদিও দাবি, এ সব কিছুই সত্যি নয়। দিল্লিতে অন্য কোনও মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল দাদা। সে ফেরার পরেই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয় সে। এর সঙ্গে কিশোরীর মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই।
কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী আর তার দাদার কথোপকথনে বারবার উঠে এসেছে, বোনের প্রতি খুব বেশি রকমের 'অবসেসড' ছিল দাদা। এবং সেটা প্রায়ই বোনের বিরক্তির কারণ হতো। এমনকী ওই বোন এটাও লিখেছিল, "তোমার দাদা হওয়ার কোনও যোগ্যতা নেই।" এছাড়াও আরও কিছু চ্যাট পড়ার পরে পুলিশের ধারণা, কিশোরী খুনের মূল চক্রী তার দাদাই। এমনকী সিসিটিভি ফুটেজও বলছে, ঘটনার সময়ে দুই অভিযুক্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিল ওই দাদা।
গত মঙ্গলবার স্কুল থেকে বাড়ি পথে দুই যুবক বাইকে চেপে এসে কিশোরীর পথ আটকায়। নানা কটু কথ বলে তাকে উত্যক্ত করছিল যুবকরা। আচমকাই তাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। এক জন বাইক থেকে একটি বোতল নিয়ে এসে কিশোরীর সারা গায়ে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়েটি আর্তনাদ করে উঠলে বাইক ছুটিয়ে চম্পট দেয় তারা। তদন্তকারীদের কথায়, রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অনুমান বাইকের চালকের আসনে সে দিন ছিল কিশোরীর ওই দাদাই। মাথায় হেলমেট ও হাতে গ্লাভস পড়েছিল সে। পেট্রল সেই ঢালে মেয়েটির গায়ে। বাকি দু’জন সে সময় আশপাশে নজর রাখছিল। জ্বলন্ত লাইটার ছুড়ে দিয়েই বাইক ছুটিয়ে চম্পট দেয় তারা।
রাস্তার মাঝে একটি মেয়েকে জ্বলতে দেখে ছুটে আসেন এলাকার বাসিন্দারা। এক বাসচালক তার বাসের ভিতরে রাখা অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভায়। ততক্ষণে কিশোরীর দেহের প্রায় ৭০ শতাংশই পুড়ে গেছে। তাকে ভর্তি করা হয় সফদরজঙ্গ হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মৃত্যু হয় কিশোরীর। ওই দিনই আগ্রার লালাউ গ্রামে নিজের বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হয় কিশোরীর ওই দাদার দেহ।