উত্তমকুমার ব্রজবাসী, নিশিকান্ত দাস, মোমিনা বিবির পর অসম থেকে এনআরসি নোটিস পাওয়ার তালিকায় নাম জুড়ল কোচবিহারের বক্সিরহাট রামপুরহাটের বাসিন্দা দীপঙ্কর সরকারের।

শেষ আপডেট: 1 August 2025 18:42
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: উত্তমকুমার ব্রজবাসী, নিশিকান্ত দাস, মোমিনা বিবির পর অসম থেকে এনআরসি নোটিস পাওয়ার তালিকায় নাম জুড়ল কোচবিহারের বক্সিরহাট রামপুরহাটের বাসিন্দা দীপঙ্কর সরকারের। জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে অসম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে নোটিস পাওয়ার পর ওই যুবক অসমে গিয়ে জমির দলিল ও ভোটের তালিকা দেখিয়েছেন। তবে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। নথি সংগ্রহে কলকাতা, গুয়াহাটিও ছুটে যেতে হয় তাঁকে। এনআরসি নোটিস নিয়ে উদ্বিগ্ন দীপঙ্কর।
তিনি জানিয়েছেন, গ্রামের আরও তিন পরিচিতের সঙ্গে কাজের সন্ধানে অসমে গিয়েছিলেন। অসমের গুয়াহাটির বেরুপাড়া শহরে ভাড়া বাড়ি নিয়ে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। অসম পুলিশ তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে পল্টনবাজার থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁরা ভোটার কার্ড, আধার কার্ড দেখিয়ে প্রমাণ করেন, তাঁরা বাংলাদেশি নন। তাঁদের জানানো হয়, বাড়িতে ফিরে ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা ও ১৯৭১ সালের জমির দলিল তৈরি রাখতে। দিন পনেরোর মধ্যে ফোন করে ডাকা হলে সেই নথি নিয়ে থানায় হাজির হতে বলা হয় তাঁদের। এরপর প্রত্যেকের আঙুলের ছাপ, মোবাইল নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে রাখা হয় থানায়।
এই ঘটনার পর প্রায় এক মাস কেটে গেলেও অসমের থানা থেকে আর কোনও ফোন আসেনি। এরপর গত জানুয়ারি মাসে শেষ সপ্তাহে তাঁর কাছে অসম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে একটি নোটিস আসে। সেই সময় ওই নোটিসে অতটা গুরুত্ব দেননি তিনি। গত মার্চ মাসে বাড়িতে আসে দ্বিতীয় নোটিস। ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা-সহ জমির কাগজপত্র ও বিভিন্ন প্রমাণপত্র নিয়ে অসমে যান। সেখানে আইনজীবী মারফত সব কাগজপত্র দেখার পরও সন্তুষ্ট হয়নি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। তাঁর বাবার ১৯৬৬ সালের সার্টিফায়েড ভোটার লিস্ট চেয়েছেন তাঁরা। সেই ভোটার তালিকা জোগাড় করতে মহকুমা শাসকের দফতরে যান দীপঙ্কর। দফতরে সেই কপি নেই বলে জানানো হয়। এরপর কলকাতা থেকে ১৯৬৬ সালের ভোটার লিস্ট জোগাড় করেন দীপঙ্কর। এরপর দিন পনেরো আগে আইনজীবী মারফত সেই নথি জমা দিয়েছেন তিনি।
দীপঙ্করের কথায়, "আমার বাবার জন্ম এখানে। শুধুমাত্র অসমে কাজ করতে গিয়ে আজ হেনস্থা হতে হচ্ছে আমাকে।" এদিকে দীপঙ্কর সরকারের এনআরসি নোটিস পাওয়ার খবর শুনে শুক্রবার তাঁর বাড়িতে যান তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তিনি অভিযোগ করেন, কোনও না কোনও কারণে কোচবিহার থেকে অসমে গিয়েছেন এমন লোকদেরই টার্গেট করছে অসম সরকার।