সোশাল মিডিয়ার ভিডিও নয়, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন- বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টির সিদ্ধান্তে সামাজিক হেনস্তার শিকার হওয়ার কথাও জানালেন তিনি।

দিশা-হুমায়ুন (সংগৃহীত ছবি)
শেষ আপডেট: 23 December 2025 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশাল মিডিয়ার ভিডিও নয়, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই প্রার্থী তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নিশা চট্টোপাধ্যায় (Nisha Chattopadhyay)। হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সদ্য ঘোষিত 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'র (Janata Unnayan Party) বিরুদ্ধে সরাসরি বৈষম্যের অভিযোগ এনে তিনি জানান, দলের এই সিদ্ধান্তের জেরে তাঁকে সামাজিক হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তৃণমূল (TMC) থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরই ঘোষণা করেছিলেন, ২২ ডিসেম্বর তিনি নতুন দল গঠন করবেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১০০-র বেশি আসনে প্রার্থী দেবেন। সেই ঘোষণা মতো সোমবার ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (Janata Unnayan Party) নামে নতুন দল, পতাকার আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে ১০টি বিধানসভা আসনের প্রার্থীর নাম জানান। সেই তালিকায় বালিগঞ্জ (Ballygunge) কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নাম ছিল নিশা চট্টোপাধ্যায়ের।
কিন্তু রাত পোহাতেই বদলে যায় পরিস্থিতি। হুমায়ুন কবীর জানান, জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন না নিশা। দলের তরফে দাবি করা হয়, নিশার কিছু ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন নিশা। তাঁর বক্তব্য, “হঠাৎ করে আমার ভিডিও নিয়ে কথা উঠছে। চারদিক থেকে নানারকম কথা শোনা যাচ্ছে। হুমায়ুন চাচাই আমাকে প্রার্থী হতে বলেছিলেন। সব ঠিক ছিল। আচমকা এসব কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না।”
তবে নিশা আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ভিডিও কোনও কারণ নয়। ধর্মীয় পরিচয়ই আসল। বলেন, “আমি হিন্দু বলেই বাদ পড়েছি। যদি সত্যিই এটা সেকুলার (Secular) পার্টি হত, তাহলে কি এমনটা হত? আমি তো বাবরির পাশেই ছিলাম। তা হলে কেন আমাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া হল?”
নিশার অভিযোগ, দলের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তাঁকে নানা কটাক্ষ, প্রশ্ন আর সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। জনতা উন্নয়ন পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। ভিডিও বিতর্কের আড়ালে আদৌ অন্য কোনও সমীকরণ কাজ করছে কি না, তা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
নতুন দল গঠনের পরেই এই বিতর্ক জনতা উন্নয়ন পার্টির অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। নিশা চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগে ধর্মীয় বৈষম্যের তকমা লাগলে, সদ্য আত্মপ্রকাশ করা দলের ভাবমূর্তি কতটা ধাক্কা খায়, সেটা সময়ই বলবে।