তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্যে দলের অন্দরে ফের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 31 August 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে শিরোনামে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার শ্রীরামপুরে দলের মহিলা সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগ, 'আমাকে সংসদে যখন হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তখন তৃণমূলের মহিলা সাংসদরা চুপচাপ বসে ছিলেন। সমর্থন করা তো দূরের কথা, কেউ প্রতিবাদও করেননি।' একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলের অনেক কথা দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছলেও সব কথা পৌঁছয় না, মাঝপথে ফিল্টার হয়ে যায়।
কল্যাণের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এর আগে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন তিনি। তখনই দলের চাপে চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। তাঁর জায়গায় চিপ হুইপ হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং ডেপুটি লিডারের দায়িত্ব দেওয়া হয় শতাব্দী রায়কে। তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা ছিল, দলে মহিলা সাংসদদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু এবার আবারও সেই মহিলা সাংসদদের দিকেই অভিযোগের তির ছুঁড়লেন কল্যাণ।
তিনি বলেন, 'রমেশ বিধুড়ী সংসদে মহুয়া সম্পর্কে যে অশালীন মন্তব্য করেছিল, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ঠিক সেই সময়েই রাজীব প্রতাপ রুডি মহুয়াকে সমর্থন করতে গিয়ে আমাকেও হুমকি দিয়েছিলেন। ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় তখন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কোনও প্রতিবাদ করেননি। মহুয়া তো কিছু বলেইনি। সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা আমাকে সমর্থন করেছিলেন।'
এই বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতার সাফ বক্তব্য, বিজেপির সাংসদরা যখন আক্রমণ করেন, তখন তৃণমূলের মহিলা সাংসদরা চুপ করে বসে থাকেন। তিনি যখন চিফ হুইপ ছিলেন, তখনই দলের হয়ে দাঁড়িয়ে সোজাসুজি প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু এখন সেই দৃঢ়তা আর দেখা যাচ্ছে না।
তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্যে দলের অন্দরে ফের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। সম্প্রতি দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর কল্যাণের মুখ খোলা নতুন করে চাপ বাড়াবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বেও।