গত চার বছর ধরে সম্পর্ক ঠান্ডাই থেকে যায় দু’জনের মধ্যে। সেই আবহে চলতি বছরের মার্চ মাসে হঠাৎই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) বাড়িতে হাজির হন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee)।

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 22 June 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই দু'জনের সম্পর্কে অবনতি হয়। ‘ঘর ওয়াপসির’ পরেও তা মসৃণ হয়নি। গত চার বছর ধরে সম্পর্ক ঠান্ডাই থেকে যায় দু’জনের মধ্যে। সেই আবহে চলতি বছরের মার্চ মাসে হঠাৎই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) বাড়িতে হাজির হন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee)। ‘ভাই’কে বাড়িতে দেখে জড়িয়ে ধরেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। মনোমালিন্য ঘুচেছে সেই থেকেই। রোববার নিজের এলাকায় যখন কল্যাণ খুঁটিপুজোয় ব্যাস্ত, তখনই দুর্গাপুজোর চমক নিয়ে আলোচনা চলছিল। ঠিক সেই সময়ই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলে উঠলেন, "কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই চমক"।
২৭ তারিখ রথ। তার আগে এদিন শ্রীরামপুর আরএমএস মাঠে খুঁটি পুজো করে দুর্গাপূজোর সূচনা করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সাংসদের খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের বিধায়ক চেয়ারম্যানরা। সেখানেই দেখা যায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়াও ছিলেন সাবদানির বিধায়ক অরিন্দম গুইন, চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার, শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা, রিষড়ার চেয়ারম্যান বিজয়সাগর মিশ্র, প্রবীর ঘোষাল, হুগলি শ্রীরামপুর তৃনমূল মহিলা সভানেত্রী মৌসুমী বসু চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব।
শ্রীরামপুরের ৫ ও ৬-এর পল্লিগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সমিতির পুজো এবার ১১২ বছরে পড়ছে। সাংসদ হওয়ার পর এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হন কল্যাণ। তৃণমূল সাংসদ বলেন, "এবারে পুজোর থিম কোনারনের সূর্যমন্দির। পুজোয় দারুণ চমক থাকবে বলেও জানান তিনি। তখনই পাশ থেকে কল্যাণের গুণগান গেয়ে বলেন, "কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই চমক।"
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে ‘বেসুরো’ হয়ে গিয়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব। দিল্লিতে গিয়ে যোগও দিয়েছিলেন বিজেপিতে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় কলকাতায় চার্টার্ড বিমান পাঠিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময় রাজীবের সঙ্গে একাধিক তৃণমূল নেতাও যোগ দিয়েছিলেন পদ্মশিবিরে। হাওড়ার ডোমজুড়ে বিজেপির টিকিটে ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন রাজীব। যদিও হেরে যান। এর পর আর বেশি দিন বিজেপিতে থাকতে পারেননি তিনি। মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর।
দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজীবের ‘ঘর ওয়াপসি’ হলেও সেই প্রত্যাবর্তন মেনে নিতে পারেননি কল্যাণ। লাগাতার রাজীবকে আক্রমণ করেছেন। নাম না করে প্রকাশ্যে তাঁকে ‘গদ্দার’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। সেসব এখন অতীত। আগামী দিনে দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেই দৃঢ় বিশ্বাস দুই বাড়ুজ্যের।