দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনে বন্ধ হয়েছে কারখানা। তার উপর শরীরে বাসা বেঁধে টিবি। এক রকম মানসিক অবসাদেই আত্মঘাতী হলেন হুগলির ভদ্রেশরের এক শ্রমিক। মৃতের নাম উত্তম ঘোষ (৫৫)।
ভদ্রেশ্বর থানা এলাকার জয়পাড়া এলাকার বাসিন্দা উত্তম কাজ করতেন দিল্লি রোডের ধারের একটি কেমিক্যাল কারখানায়। তাঁর পরিবারের লোক জানিয়েছেন, লকডাউনে কাজ চলে গিয়েছিল উত্তমবাবুর। তাঁর ছেলে কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে তাঁরও কাজ নেই। তার উপর শারীরিক অসুস্থতার কারণে আরও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
পরিবারের তরফে আরও বলা হয়, পিএফ-এর টাকায় নতুন বাড়ি করেছিলেন উত্তমবাবু। ফলে জমানো টাকা বলতে আর কিছুই নেই। ছেলে এবং তাঁর নিজের কাজ চলে যাওয়ার ফলে অভাব গ্রাস করছিল। সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আত্মীয়রা।
এদিন সকালে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের লোকজন। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরাও। এরপর খবর দেওয়া হয় ভদ্রেশ্বর থানায়। ভদ্রেশর থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
লকডাউনের ফলে হুগলি শিল্পাঞ্চলে একাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। দিল্লি রোডের ধারে বহু কারখানায় দেদার কর্মী ছাঁটাইও হয়েছে এই সময়ে। অনেকেই পেশা বদলে ফেলেছেন। দেখা যাচ্ছে, বৈদ্যবাটি, ভদ্রেশ্বর, চাঁপদানি এলাকার বহু ঠিকা শ্রমিক কাজ হারিয়ে এখন সবজি বা মাছ বিক্রি করছেন। কিন্তু অনেকেই পরিস্থিতির সঙ্গে জুঝে উঠতে পারছেন না। উত্তমের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।